করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে থমকে আছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন। সুনামগঞ্জে করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে সবাইকে। এমন পরিস্থিতিতে সেলুনগুলোতে ক্ষৌরকার (নাপিত) আর সেলুনে আসা লোকদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন। তাই বন্ধ রয়েছে জেলার সবগুলো সেলুন। এতে কর্মহীন হয়ে বিপাকে আছেন সুনামগঞ্জের ৪ হাজারেরও বেশি ক্ষৌরকার। সরকারের পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে লকডাউনের কার্যকারিতা কিছুটা শিথিল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট খুলে দিতে বলা হলেও সেলুনগুলোতে করোনা আতঙ্কে আসছেন না মানুষজন। এতে চরম অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। জানা যায়, গত ২৫ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের কারণে সুনামগঞ্জে লকডাউন শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় জেলার সেলুনগুলো। তবে মাস শেষে সেলুনের দোকানভাড়া দেওয়ার চাপ, জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধি, সংসার চালানোর দুশ্চিন্তায় চরম বিপাকে রয়েছেন জেলায় কাজ করা ৪ হাজারেরও বেশি ক্ষৌরকার। এদিকে সরকারি কোনো ত্রাণের আওতায় না আসায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তার পড়েছেন এসব ক্ষৌরকার। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পৌর মার্কেট এলাকার জিবন চন্দ বলেন, ২৫ মার্চ থেকে সেলুন বন্ধ। কাজ না থাকায় হাতে টাকা নেই। অনেকটা অনাহারে অর্ধাহরে জীবন পার করতে হচ্ছে কিন্তু সেলুনের দোকান ভাড়া মাফ দিচ্ছেন না মালিকরা।
জেলা ক্ষৌরকার সমিতির সভাপতি বাদল সরকার বলেন, আমাদের রোজগারের পথ না খুললে কী হবে জানি না।
জেলা প্রশাসক আবদুল আহাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সীমিত আকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট খুলে দিতে বলা হয়েছে। সেলুনগুলোতে সংক্রমণ ঝুঁকির কথা ভেবে হয়তো লোকজন যাচ্ছেন না। তবে ইতিমধ্যে শহরের কিছু ক্ষৌরকারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।