ঘাটে আটকা যাত্রীর আক্ষেপ

যদি সাঁতরে পদ্মা পাড়ি দিতে পারতাম!

একদিকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অন্যদিকে সুপার সাইক্লোন আম্পান এই দুই চাপে গত সোমবার বিকেল থেকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে বন্ধ ঘোষণা করা হয় ফেরি চলাচল। ওই রুটে আগে থেকেই বন্ধ ছিল লঞ্চ, স্পিডবোট। হঠাৎ ফেরি বন্ধের এই ঘোষণায় ঘাটে আটকা পড়েছে হাজার হাজার যাত্রী। সেখানেই রাত কাটাতে হয়েছে তাদের। এদের অনেকে ঢাকায় কাজ হারিয়ে বাধ্য হয়ে ফিরছে গ্রামের বাড়ি। মাদারীপুরের মাহমুদুল তেমনই একজন। ঘাট থেকে ঢাকায় ফিরে আসার বাস্তবতা না থাকায় তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, সম্ভব হলে তিনি সাঁতরেই পদ্মা পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরতেন। 

গতকাল মঙ্গলবার তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে সোমবার রাত ২টার দিকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন পরিবার নিয়ে। সড়কে প্রশাসন-পুলিশের বাধা পাশ কাটিয়ে গতকাল ভোরে পৌঁছান শিমুলিয়া ঘাটে। এসে দেখেন ফেরি চলাচল বন্ধ। কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেও লাভ হয়নি। অগত্যা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পারাপারের আশা নিয়ে বসে আছেন পদ্মার তীরে।

মাহমুদুল জানান, তিনি ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালান। কিন্তু কয়েক দিন আগে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বাড়ি ফেরা ছাড়া উপায় নেই তার। সোমবার ঢাকা থেকে পরিচিত একজন চালক তার পরিবারের তিন সদস্যকে প্রাইভেটকারে করে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া এলাকার ধলেশ্বরী সেতু পর্যন্ত দিয়ে যায়। সেখান থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সোমবার ভোরে পৌঁছাতে পেরেছেন ঘাটে। 

তিনি জানান, ব্যাগে করে সামান্য চিড়া, খেজুর ও পানি সঙ্গে করে এনেছিলেন। সাহরিতে চিড়া খেয়ে রোজা রেখেছেন। বসে আছেন পারাপারের অপেক্ষায়।

গতকাল দুপুরে ঘাটে দেখা গেছে, সীমিত পরিসরে ফেরি চালু রেখে তাতে পণ্যবাহী ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপার করা হচ্ছে। ঘাটে কয়েকশ প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস পারাপারের অপেক্ষা আছে। ঘাট এলাকার পদ্মার তীরে বসে অপেক্ষা করছেন সাধারণ যাত্রীরা। এ ছাড়া পণ্যবাহী ২ শতাধিক যানবাহনও লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ফেরি চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানের নির্দেশে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফেরি পারাপার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দুটি ফেরি দিয়ে শুধু জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স পার করা হবে।