প্রকৌশলী দেলোয়ার হত্যাকাণ্ড

সন্দেহের তীর করপোরেশনের শীর্ষ ব্যক্তিদের দিকে

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলীসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ১০ দিন পরও এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দাপুলিশ (ডিবি), র‌্যাব ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

১১ মে দুপুরে দিয়াবাড়ী বেড়িবাঁধের জঙ্গল থেকে গাজীপুর সিটির কোনাবাড়ী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুনিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতেই আছে। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। নিহত প্রকৌশলীর সহকর্মী সহকারী প্রকৌশলী সেলিমসহ দুজন সহকারী প্রকৌশলীকে দুদিন আগে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঘটনার দিন প্রকৌশলী দেলোয়ারকে বহনকারী সিটি করপোরেশনের গাড়িচালককে আটক করা হয়েছে। চালকের দেওয়া তথ্য থেকে এ হত্যায় সরাসরি জড়িত সন্দেহভাজন ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ১১ মে সকালে পিপিই পরিধান করা ৩ জন ওই গাড়িতে ওঠেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ারকে হত্যা করে লাশ তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ী এলাকার উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর ব্রিজের কাছে জঙ্গলে ফেলে দেয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রভাবশালী এক নেতার নাম এসেছে। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মূলত সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারদের শতকোটি টাকা বিল আটকে রাখার জন্যই পরিকল্পিতভাবে ওই প্রকৌশলীকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে ‘সৎ ও মেধাবী’ একজন প্রকৌশলী হত্যার ঘটনায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে নীরব ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রতিবাদ করেছেন অনেকেই। তারা বলছেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্তাদের ইন্ধন রয়েছে। মূল খুনিরা ধরা না পড়ায় দিন যতই পেরিয়ে যাচ্ছে, সন্দেহের তীর করপোরেশনের দিকেই যাচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেলোয়ার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত থাকতে পারে। ঠিকাদারদের শতকোটি টাকার ফাইল আটকে রাখা ও সিটি করপোরেশনের অনেক দুর্নীতির খবরও জানতেন প্রকৌশলী দেলোয়ার। বিভিন্ন দ্বন্দ্বের কারণে তাকে ছয় মাস ওএসডি করে রাখা হয়।

ঘটনার ছায়া তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে একজন সহকারী প্রকৌশলীর সংশ্লিষ্টতা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে অন্তত আরও ৫ জন জড়িত রয়েছে।

গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানায়, দেলোয়ার হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক দুই সহকারী প্রকৌশলী ও কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কয়েকজন শীর্ষ কর্তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাদের সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো টেন্ডার হয় না। কারণ যারা ছোট ঠিকাদার রয়েছেন, তাদের লাইসেন্সে এক কোটি টাকার বেশি কাজ দেওয়া হয় না। আর যারা সিন্ডিকেটে রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকেই পাঁচ কোটি টাকার কাজ পান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ছোট ঠিকাদার অভিযোগ করেন, ওই নেতার মাধ্যমে বিনা টেন্ডারেও কোটি কোটি টাকার কাজ করেছেন ওই সিন্ডিকেটের ঠিকাদাররা। ওই ফাইলগুলো আটকে রাখেন প্রকৌশলী দেলোয়ার। এসব কারণেই তাকে হত্যা করা হতে পারে।