আম্পান-দুর্গত পাখিতে গ্রামবাসীর ভূরিভোজ

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার একদল গ্রামবাসী ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ঝড়ো হাওয়ায় মাটিতে আছড়ে পড়া শতাধিক শামুকখোল পাখি ধরে ভূরিভোজ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে ঘটে এ ঘটনা।

স্থানীয়রা জানায়, রাতে ঝড়ের তোড়ে গাছের ডাল থেকে পাখিগুলো মাটিতে পড়ে গেলে ভোরে একদল গ্রামবাসী সেগুলো ধরে জবাই করে রান্না করে। বাজিতপুর গ্রামের আদেশ আলী বলেন, তিন-চার মাস ধরে গ্রামের বটতলা মোড়ের পাশের তিনটি শিমুল গাছে শতাধিক শামুকখোল পাখি আশ্রয় নেয়। দিনের বেলায় পাখিগুলো আশপাশের বিলে খাবার খেয়ে রাতে এসব গাছে এসে থাকত। এর মাঝে অনেকেই পাখিগুলো শিকার করার চেষ্টা করলেও গ্রামের কিছু সচেতন মানুষের বাধার কারণে তাদের চেষ্টা সফল হয়নি। কিন্তু ঝড়ের সুযোগে কিছু লোভী মানুষের কারণে শেষ রক্ষা হলো না।

একই গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল হোসেন বলেন, পাখিগুলোর প্রতিটি ২-৩ কেজি করে ওজন ছিল। পাখিগুলোর প্রতি গ্রামের কিছু লোকের আগে থেকেই লোভ ছিল। ঝড়ের সময় মানুষ যখন নিজেদের জানমাল নিয়ে ব্যস্ত তখন ওইসব লোকজন পাখিগুলো ধরে নিয়ে জবাই করে খাওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিল।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, অসহায় অতিথি পাখি নিধনের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে আগে থেকে তৎপর থাকা দরকার ছিল। পাখির আবাসস্থলের আশপাশের লোকজনকে সচেতন করে পাখি নিধন বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, বাজিতপুর গ্রামে অতিথি পাখি শামুকখোল থাকার বিষয়টি জানা ছিল না। আগামীতে এ রকম ঘটনা যেন আর না ঘটে সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।