গাইবান্ধায় ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্তে ঈদ সামনে রেখে দোকান ও মার্কেট খোলার পর শুক্রবার কেনা-কাটায় কাউকে সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি। মার্কেট ও দোকানগুলোতে ছিল না হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। ক্রেতা-বিক্রেতা অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। শুধু তাই নয়, করোনার হটস্পট ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসাও মানুষজনকেও অবাধে ঈদের কেনাকাটা করতে দেখা গেছে।
এর আগে, ঈদের কেনাকাটায় সামাজিক দূরত্ব না মানায় করোনার সংক্রমণরোধে গত সোমবার বিকেল থেকে ঈদকেন্দ্রিক দোকান ও মার্কেটগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন। এর প্রতিবাদে সেদিন বিকেলেই জেলা প্রশাসকের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন দোকান মালিক ও কর্মচারীরা। পরদিন মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। বৈঠকে প্রশাসন রাজি না হলেও শুক্রবার ও শনিবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানান ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. মকছুদার রহমান শাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রায় দুই মাস দোকান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদেরকে দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। পাওনাদাররা চাপ দিচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ী ঈদের কেনাকাটা করে ফেলেছেন। তাই তারা এসময় দোকান না খুললে আর্থিকভাবে খুবই ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এজন্য সব ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে দোকান খুলেছেন। তবে জেলা প্রশাসন দোকান খোলার অনুমতি দেয়নি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে কথা বলতে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিনকে কয়েকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আলমগীর কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, সোমবার জেলা করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য যেসব দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেটিই বলবৎ আছে। এসব নতুন করে আর খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।
গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য মতে, জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২৯ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২২ জন, মারা গেছেন ৩ জন ও চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ জন।