আক্রান্তে বিশ্বে এখন ২৭তম বাংলাদেশ

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার দেশে করোনা শনাক্তের ৭৬তম দিনে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১ হাজার ৬৯৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশে সর্বমোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২০৫ জন। সম্প্রতি করোনা রোগী শনাক্ত এতটাই বেড়েছে যে, শেষ সাত দিনেই ১০ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তে বিশ্বে এখন

২৭তম বাংলাদেশ। এদিকে গতকাল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় ২৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় ২২ জনের মৃত্যুই ছিল সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। অন্যদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ রোগী সুস্থ হওয়ার মাধ্যমে দেশে মোট সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়।

বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ৪৭টি ল্যাব কর্র্তৃক সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৯ হাজার ৯৯৩টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ৯ হাজার ৭২৭টি। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ৬৯৪ জন কভিড-১৯-এ শনাক্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ২৪ জন এবং সুস্থ হয়েছেন আরও ৫৮৮ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৪১টি নমুনা পরীক্ষায় ৩০ হাজার ২০৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন মোট ৪৩২ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ১৯০ জন। মোট শনাক্তদের মধ্যে সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ৪ মে ৫৮তম দিনে এসে সর্বমোট রোগী ১০ হাজার ছাড়ায়। এরপর গত ১৫ মে ৬৯তম দিনে সর্বমোট রোগী ২০ হাজার এবং গতকাল ২২ মে ৭৬তম দিনে সর্বমোট রোগী ৩০ হাজার ছাড়ায়। অর্থাৎ প্রথম ১০ হাজার রোগী শনাক্ত হতে সময় লেগেছে ৫৮ দিন, দ্বিতীয় ১০ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১১ দিনে এবং তৃতীয় ১০ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছেন মাত্র ৭ দিনে। এছাড়া প্রথম এক মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছেন মাত্র ১২৩ জন। দ্বিতীয় মাসে শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৫৯৬ জন এবং শেষের মাত্র ১৬ দিনে শনাক্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ৪৮৬ জন রোগী।

সর্বশেষ মৃত ২৪ জনের বিষয়ে বুলেটিনে বলা হয়, মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯ জন এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে। তাদের ১৫ জন মারা গেছেন হাসপাতালে, ৮ জন বাড়িতে ও ১ জনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মৃতদের মধ্যে ২১-৩০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৩১-৪০-এর মধ্যে ৩ জন, ৪১-৫০-এর মধ্যে ২ জন, ৫১-৬০-এর মধ্যে ৫ জন, ৬১-৭০-এর মধ্যে ৬ জন, ৭১-৮০-এর মধ্যে ২ জন ও ১ জনের বয়স ৮১-৯০-এর মধ্যে।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ২২৫ জনকে। সারা দেশে বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪ হাজার ৬০ জন। একই সময় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৫৬০ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৫৪ হাজার ৯২৩ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৬টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৫২৬ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পিপিই বিতরণ হয়েছে ২০ লাখ ৬১ হাজার ৩২টি। বর্তমানে মজুদ আছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৫টি।

যে ১৭ বেসরকারি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করা যাবে : বুলেটিনে জানানো হয়, সারা দেশে মোট ১৭টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে নমুনা পরীক্ষার (আরটি পিসিআর) অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১৪টি, চট্টগ্রামে ২টি ও বগুড়ায় ১টি। ঢাকার হাসপাতালগুলোর মধ্যে আছে এভারকেয়ার (সাবেক অ্যাপোলো) হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্স জেনারেল হাসপাতাল, ল্যাবএইড হাসপাতাল, কেয়ার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আইসিডিডিআর-বি। ঢাকার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে আছে প্রাভা হেলথ, বায়োমেড ডায়াগনস্টিক, ডিএমএফআর মলিকুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক এবং ডিএনএ সলিউশন লিমিটেড। এছাড়া চট্টগ্রামের শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি ও ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল এবং বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রাফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল পরীক্ষার অনুমতি পেয়েছে। এই ১৭টি প্রতিষ্ঠানের সবগুলো এখনো নমুনা পরীক্ষা শুরু করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা। তবে বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করলে সেক্ষেত্রে আরও ১ হাজার টাকা নেওয়া যাবে।