এবার ঈদের দিনে বিনোদনের নামে বা কোনো বিনোদনকেন্দ্রে ঘোরাঘুরি অথবা দর্শনীয় স্থানে জমায়েত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, বিনোদনকেন্দ্র বা দর্শনীয় স্থানগুলোতে র্যাবের নজরদারি থাকবে। জমজমাট ঈদ উদযাপন না হয় অন্য কোনো ঈদে করা যাবে। ঈদে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে র্যাবের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে গতকাল শুক্রবার সকালে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এবার ঈদুল ফিতরে সবাইকে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে র্যাব ডিজি বলেন, ‘এবার একেবারেই ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে আমরা দেশবাসী পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছি। যখন প্রায় প্রতিটি জেলা করোনা আক্রান্ত। তার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাত। দেশবাসীকে অনুরোধ করব, ঈদের দিনে কেউ ঘোরাফেরার জন্য বাইরে বের হবেন না। আপনারা ঘরে থাকুন, আপনাদের জন্য আমরা আছি বাইরে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর খোলা আকাশের নিচে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করে থাকি। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা মতে মসজিদগুলোতে একটা নির্দিষ্ট সময় বিরতিতে একাধিক ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই ঈদের নামাজ ঘিরে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের পাশাপাশি র্যাব নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
আবদুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, ‘অন্যবার ঈদের নামাজ ঘিরে অল্পসময়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রয়োজন হতো। কিন্তু এবার মসজিদে ঈদের নামাজ হওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। সে জন্য মসজিদ কমিটি ও সম্মানিত মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে আসবেন, দূরত্ব রেখে নামাজের লাইন করবেন, নামাজ শেষে একটা নির্ধারিত সময় গ্যাপ দিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বা পরের নামাজে জামাতের আয়োজন বা ব্যবস্থা করবেন। এ সময়টিতে আমরা আপনাদের নিরাপত্তা দেব।’
ঈদ জামাত এবং এই করোনার মধ্যে উগ্রবাদী, সন্ত্রাসী কিংবা জঙ্গিবাদী কোনো হুমকি বা হামলার শঙ্কা আছে কি না, জানতে চাইলে র্যাব ডিজি বলেন, ‘এই সংকটময় মুহূর্তে র্যাব তাদের দায়িত্ব পালনে পিছপা হয়নি; বরং চলমান যে প্রক্রিয়া সেটা আরও গতিশীল ও ত্বরান্বিত রেখেছে। কোনো সন্ত্রাসী, উগ্রবাদী কিংবা জঙ্গিগোষ্ঠীর অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সে জন্য র্যাবের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং করছে র্যাবের সাইবার টিম।’
তিনি বলেন, ‘উসকানি, নাশকতামূলক এবং জঙ্গি অপতৎপরতা বন্ধে নজরদারি ও চেকপোস্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে। রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’