ঝিনাইদহ কুষ্টিয়ায় বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমাধান হয়নি

কুষ্টিয়ার বটতৈলস্থ ৩৩ কেভি জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন উপকেন্দ্রে অগ্নিকা-ের ঘটনায় দুটি ট্রান্সফরমারের একটি সম্পূর্ণরূপে এবং অন্যটিরও বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সমগ্র কুষ্টিয়াসহ মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও রাজবাড়ীর আংশিক এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় অব্যাহত আছে। গত বুধবার রাত ১০টায় সংঘটিত অগ্নিকান্ডের পর থেকে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নসহ সমগ্র জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান তা-বের পর গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ টিমসহ শতাধিক টেকনিশিয়ানরা ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমার মেরামত ও পুনঃস্থাপন করে অচল বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে সচলে বিরতিহীন কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান পিজিসিবির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) প্রকৌশলী মাসুম আলম বকসী।

কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সোহরাব আলী বিশ^াস জানান, জরুরি ভিত্তিতে কুষ্টিয়া শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চালাতে একটা ব্যাক আপ দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে এখানে চাহিদার তুলনায় এই বিদ্যুৎ একেবারেই যৎসামান্য, সে কারণে অবশ্য এখানে রেশনিং সিস্টেমে চালাতে হবে।

অপরদিকে, আম্পানের ঘূর্ণিঝড়ের তা-বে গত দুদিন পরও ঝিনাইদহ জেলায় ৮০ ভাগ এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলা শহরের কিছু এলাকায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও রাত ১০টার পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও উপজেলা ও গ্রামাঞ্চল রয়েছে এখনো অন্ধকারে। ফলে বিপাকে পড়েছে উপজেলার সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ রয়েছে মোবাইল ফোন। চার্জ দিতে না পারায় মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজে রাখা খাবার এবং দেখা দিয়েছে পানির সমস্যা।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঝড়ের তা-বে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় দুইশ পোল ভেঙে পড়েছে। পিডিবির ৩০টি পিলার ভেঙে পড়েছে। এছাড়াও তার ছিঁড়ে সঞ্চালন লাইনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুতের জিএম ইসাহাক আলি জানান, এখন পর্যন্ত ৩০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। লাইন মেরামতের কাজ চলছে। আশা করি অতি দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।