টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কৃষকের পাকা ধান ঘরে তুলতেও করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে। ১ হাজার থেকে ১১শ টাকা মজুরিতেও ধানকাটা শ্রমিক না পেয়ে বিপাকে পড়েছে এলাকার কৃষক।
গত কয়েক দিন থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি আর ঢলে নিচু জমির ধান পানিতে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক হাজার কৃষক ঘরে ধান তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। ফলে ধানকাটা নিয়ে দুঃচিন্তায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৮১৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ করা হয়েছে। শুরু থেকে আবহাওয়া অনকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে।
বিগত বছরগুলোতে রংপুর, কুড়িগ্রাম, সিরাজগজ্ঞ, বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধানকাটা শ্রমিক আসলেও করোনাভাইরাসের কারণে এবছর আসতে না পারায় মির্জাপুরে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট।
চড়া দামে ধান কাটা শ্রমিক না পেয়ে অনেক কৃষক এলাকার দরিদ্র যুবকদের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক ধান কেটে ঘরে তুলছেন বলে খোজ নিয়ে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ঈদের আগে নানা উপায়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধানকাটা শ্রমিক নিয়ে আসা হয়েছিল। এতে আবাদের অর্ধেক জমির ধানকাটা হয়েছে। কিন্তু ঈদের বন্ধে শ্রমিকরা বাড়ি চলে যাওয়ায় বর্তমানে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাদের পুনরায় নিয়ে আসতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত প্রদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে উপজেলা কৃষি অফিসার মশিউর রহমান জানিয়েছেন।
পৌর এলাকার পুষ্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা শহিদুর রহমান বলেন, তার ২৮ শতাংশ জমির পাকা ধান কাটার শ্রমিক না পেয়ে এলাকার কয়েকজন যুবককে ৪ হাজার ৫শ টাকা চুক্তির মাধ্যমে ধান কেটেছেন।
মির্জাপুর পৌর এলাকার বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক শামসুল আলম জানান, তিনি আড়াইশ শতাংশ জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। ফলনও ভাল হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু জমির ধান কাটা হয়েছে।
গত কয়েক দিনের ঝড় ও বৃষ্টিতে তার নিচু জমির ধান ডুবে যাচ্ছে। বর্তমানে জনপ্রতি এক হাজার থেকে এগারোশ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছেন না তিনি।
একই কথা জানান, গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও চাঁন মিয়াও। পাকা ধান জমিতে থাকায় তারা দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক শ্রমিক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, সংকট কাটাতে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে এ উপজেলায় ছোট বড় পনেরটি হারবেস্টার মেশিন ধানকাটার কাজ করছে। অচিরেই শ্রমিক সংকট কেটে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।