পৃথক স্থানে দুই গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

নীলফামারীর সদর ও জলঢাকা উপজেলায় দুই গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা সদরের খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের হালিরবাজার এলাকা থেকে সাথি দাস ওরফে মিনা (২০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বী তিমথিও দাসের স্ত্রী। এঘটনায় তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান প্রধান বলেন, সাথি ওরফে মিনা দাস পারিবারিক কলহের জের ধরে গত বুধবার রাত ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টার দিকে বাড়ির অদূরে এলাকাবাসী তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। রংপুর থেকে পিবিআইয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নীলফামারী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ উন নবী বলেন, মিনা দাসের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত গৃহবধূর স্বামী তিমথিওকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে থানায় একটি জিডি হয়েছে। সাথির পরিবারের পক্ষে অভিযোগ পেলে সেটি গ্রহন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরদিকে জেলার জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের ঘুঘুমারী গ্রামে শিল্পী বেগম শিমু (৩২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। সে ওই গ্রামের আহেদ আলীর স্ত্রী। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর মামা মজিবর রহমান থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয়দের ধারণা, কৌশলে বিষ পান করানোর ফলে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর গৃহবধূর তিন শিশু সন্তানকে রেখে স্বামী আহেদ আলী, শ্বশুর ছপি উদ্দীন এবং সৎ শাশুড়ি আলেয়া বেগম বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. হামিদুল হক বলেন, স্থানীয়রা ধারণা করছেন পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

জলঢাকা থানার মীরগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা (উপ-পরিদর্শক) আব্দুর রহিম বলেন, শিল্পীর মামা মজিবর রহমান বাদী হয়ে একটি ইউডি মামলা করেছেন। তার স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, নিহতর শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। লাশের ময়না তদন্ত হয়েছে। এ রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।