করোনার প্রভাব

দেশে তরুণদের প্রতি চারজনে একজন বেকার : আইএলও

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী বেকারত্ব, বিশেষত তরুণদের বেকারত্ব বাড়ছে। তবে এতে কর্ম হারানোর দিক থেকে অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হিসাব অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ^ব্যাপী প্রতি ছয়জনে একজন তরুণ বেকার হয়েছে। আর বাংলাদেশে এই সংখ্যা প্রতি চারজনে একজন। এর ফলে জনতত্ত্বের সুবিধাজনক অবস্থানে (অপেক্ষাকৃত কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা বেশি) থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সেই সুবিধা নিতে পারছে না। সংস্থার সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা কাজে রয়েছে তাদেরও কর্মঘণ্টা কমে গেছে প্রায় ২৩ শতাংশ। বুধবার বিশ্বব্যাপী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে আইএলও।

আইএলওর মানদন্ড অনুযায়ী ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা তরুণ শ্রেণিভুক্ত। শ্রমবাজারে এই গ্রুপটি অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ। তারা সাধারণত কম মজুরির পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা ও অভিবাসী শ্রমিক হয়ে থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে যুবকশ্রেণির মধ্যে ২৭ শতাংশের বেশি এখন কর্মসংস্থানের মধ্যে নেই। শুধু তাই নয়, এই সময়টিতে তাদের জন্য কোনো ধরনের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেই। দেশে প্রতি বছর অন্তত ২০ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। এর মধ্যে অদক্ষ তরুণের সংখ্যাই বেশি।

আইএলও জানিয়েছে, শ্রমবাজারে প্রবেশ করা যুবকদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই অদক্ষ। এছাড়া দেশে আগে থেকেই চাকরির বাজার সঙ্কুচিত থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা যাচ্ছে না। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৯ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য থাকলেও কর্মসংস্থানে আসতে পেরেছে ১৮ লাখেরও কম। গত ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করার পর দেশের শ্রমবাজারের ওপর তা আরও বড় আঘাত ফেলল। অন্যদিকে যারা নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে চাচ্ছে, তাদের চাকরির ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারীর কারণে দিন দিনই যুবকদের কাজের সংস্থান কমছে। অর্থাৎ এই শ্রেণির বেকারত্ব বাড়ছে ব্যাপক হারে। বেকারত্বের পাশাপাশি তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দ্রুত ও বৃহৎ পরিসরে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইএলও। ঢাকায় আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটিআইনেন বলেন, করোনা মহামারীর কারণে তরুণদের ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থার কমার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগও কমে গেছে। দুঃখজনকভাবে এই শ্রেণির মধ্যে নারী শ্রমিকদের ওপর এই আঘাতটা এসেছে সবচেয়ে বেশি মারাত্মক হয়ে। কেননা তারা অপেক্ষাকৃত স্বল্প পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে থেকেই বিশ্বব্যাপী যুবকশ্রেণির মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল অপেক্ষাকৃত বেশি। ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী ২৬ কোটি ৭০ লাখ তরুণ বেকার ছিল, যা কর্মক্ষম যুবকদের প্রায় ১৪ শতাংশ।

আইএলওর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেন, জরুরিভিত্তিতে তরুণদের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু করা না গেলে এই ক্ষতির জের টানতে হতে পারে পরবর্তী কয়েক দশক ধরে। পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে তাদের মেধা ও কর্মক্ষমতা যদি ‘সাইডলাইনে’ চলে যায়, তা আমাদের ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। শুধু তাই নয়, করোনাপরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও কঠিন হবে।