কুষ্টিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে গড়াই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া রাফসান সনম (৩০) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
শুক্রবার সকাল ৮টায় গড়াই নদের ঘোড়াঘাট এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত রাফসান সনম মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ঈশ্বরদী শাখায় কর্মরত ক্যাশ অফিসার এবং কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার মৃত রেজাউল হক খানের ছেলে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় ঘোড়াঘাট এলাকায় গড়াই নদে রাফসান তার পাঁচ বন্ধু রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হাসিবুর রশিদ তামিম, ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ, কুষ্টিয়া স্যামসাং শো–রুমের ম্যানেজার ফয়সাল ও আব্দুর রশিদের সঙ্গে গড়াই নদীতে গোসল করতে নামেন।
এ সময় তামিম ও রাফসান একটু গভীরে গেলে হঠাৎ করেই তারা দু’জনেই নদীতে তলিয়ে যান। এ সময় অন্য বন্ধুদের চিৎকারে স্থানীয় মাঝিরা ছুটে এসে তামিমকে টেনে তুললেও রাফসান তলিয়ে যাওয়াই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বন্ধু হাসিবুর রশিদ তামিম বলেন, রাফসান আর আমি একসাথেই ছিলাম। বাকিরা একটু কম পানিতে ছিল। হঠাৎ করে আমাদের পায়ের তলের বালি সরে যায়। সাঁতার না জানায় আমি ও রাফসান তলিয়ে যাই। এ সময় স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করতে পারলেও রাফসানকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে রাফসান তার কর্মস্থল ঈশ্বরদী থেকে কুষ্টিয়া এসেছিলেন। চলতি মাসের ২ তারিখে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলী সাজ্জাদ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় বন্ধুদের সাথে গোসলে নেমে সাঁতার না জানা রাফসান নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে রাতে খুলনা থেকে ডুবুরি দল এসেও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।
কিন্তু গভীর রাত পর্যন্তও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে শুক্রবার ভোর থেকে স্থানীয়দের সাথে যৌথ চেষ্টায়।
ঘটনাস্থলের ভাটিতে থাকা গড়াই খনন প্রকল্পের ড্রেজারের তলদেশ থেকে সকাল ৮টায় রাফসানকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।