ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে দিন-রাত দু'দফা জোয়ারের পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হচ্ছে বসতভিটা, গ্রামীণ জনপথ, মাছের পুকুর-ঘের, উৎপাদিত ফসল।
৩-৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে ৫ হাজার হেক্টর ফসল জমি। নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলের ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলো দ্রুত মেরামত না হলে কৃষিখাতে চরম বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
অপরদিকে দ্রুত এসব বেড়িবাঁধ মেরামতে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ৮২৮ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে।
সম্প্রতি (২০ মে) ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে নদীর পানি বিপদসীমার ১৭৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পটুয়াখালী ও কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডে একাধিক স্থানের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়।
এতে সদর উপজেলার লাউকাঠি, কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, দেবপুর, নিজামপুর, জালালপুর, ধুলাসর, মির্জাগঞ্জ উপজেলার রামপুর, সুন্দ্রা কালিকাপুর, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি, রতনদি তালতলি, তুলাতলি, দশমিনা উপজেলার রনগোপালদি, বেতাগি সানকিপুর, জাফরাবাজ, বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট, আলীপুরা কালিবাড়ি, খলিশাখালী বাউফল উপজেলার ভুড়িয়া, বামনকাঠি, দুমকির মুরাদিয়া, শ্রীরামপুর, চরবয়রা এবং রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাঝের চর, চরকাশেম, কাউখালী, চরমোন্তাজের চরআন্ডা, চালিতাবুনিয়া, মৌডুবী এলাকার অন্তত ২২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে দু’দফা জোয়ারের পানি এসব এলাকার প্রবেশ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪ হাজার ৫৫৩ হেক্টর জমির ফসল।
৫ হাজার ৭৫৪টি পুকুর এবং ৬২৩টি মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ায় মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে ৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার
প্রতিনিয়ত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা। পানিতে ধুয়ে বিলীন হয়ে গেছে এসব এলাকার গ্রামীন কাঁচা-আধা পাকা সড়ক। ভেঙে গেছে সাঁকো, সেতু, কালভার্ট। তৈরি হয়েছে নিরাপদ পানির অভাব। ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসম্মত পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা। দেখা দিয়েছে তীব্র গো-খাদ্যের সংকট। বেড়ে গেছে পানি বাহিত রোগের প্রার্দুভাব।
দশমিনা সদর ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট লিটন জানান, দশমিনা উপজেলার চারটি স্থানের ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ দিয়ে তেতুলিয়া, বুড়াগৌরাঙ্গ, সুতাবাড়িয়া নদীর পানি জনপদে প্রবেশ করে অন্তত পাঁচ হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। নোনা পানিতে আবাদি জমি ৩-৪ ফুট পানিতে ডুবে আছে।
উপজেলা র্নিবাহী অফিসার তানিয়া ফেরদৌস জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভাঙার খবর পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস জানান, বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে লবন পানি প্রবেশ করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামে। টারিপাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে এখনও শতাধিক মানুষ আশ্রিত রয়েছে। অমাবশ্যার জোয়ে’র প্রভাবে নদীতে বাড়ছে ক্রমশ বাড়ছে পানির উচ্চতা। ক্ষতিগ্রস্ত এসব বাঁধ দ্রুত মেরামত করা না হলে বর্ষা মৌসুমে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হবে ১২ হাজার মানুষকে।
কলাপাড়া জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. অলিউজ্জামান বলেন, আম্পানের প্রভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের প্রায় ৭ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী হাসানউজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।