প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বে রেকর্ড ১ লাখ ১৬ হাজার ৩০৪ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায়। ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর এক দিনে এত বেশি রোগী শনাক্তের ঘটনা ঘটেনি আর। ওই সময় ৪ হাজার ৬০০ জনের বেশি করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ব্রাজিলে। ওই সময় ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২৬ হাজার ৪১৭ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্ত ৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৩৮ জন। করোনা আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে আমেরিকা এক নম্বরে, দুইয়ে ব্রাজিল। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে মারা গেছে ১ হাজার ১৫৬ জন। মোট মৃতের সংখ্যা ২৬ হাজার ৭৫৪। এই হারে মৃত্যু হলে আর এক দিনেই স্পেনকে ছাড়িয়ে যাবে তারা।
এর আগে গত ২২ মে বৃহস্পতিবার ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয় বিশ্বে। তার আগের দিনও হয় ১ লাখ ৬ হাজারের মতো রোগী। এর আগে টানা দুই দিন লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ড ছিল না। গত ২৪ এপ্রিল এক দিনে ১ লাখ ১ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল বিশ্বে। এর মাঝে বেশ কয়েক দিনই ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা ৯৫ হাজার ছাড়ায়। আর এই সময়টাতে গড়ে প্রতিদিন ৮৩-৮৫ হাজার মানুষের শরীরে করোনা ধরা পড়ে।
আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থার ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে ২৯ মে ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৩০৪ জন। এর সঙ্গে গতকাল শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত আরও ৬১ হাজার রোগী শনাক্ত হওয়ায় মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ লাখ ৬২ হাজার ২৭৬ জনে। আর মারা গেছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৮৯৮ জন। এই সময় পর্যন্ত অবশ্য বিশ্বজুড়ে ২৬ লাখ ২৭ হাজার ৯৭৮ জন আরোগ্য লাভ করেছে।
ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ৫২৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১ লাখ ৩ হাজার ৬৬৯ জন। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্পেনে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮৪৯। মারা গেছে ২৭ হাজার ১১৮ জন। ইতালিতে মারা গেছে ৩৩ হাজার ৭২ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ১৩৯।
যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৪৬০, আক্রান্ত ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৪০ জন। ফ্রান্সে মারা গেছে ২৮ হাজার ৫৯৬ জন। আক্রান্ত ১ লাখ ৮২ হাজার ৯১৩ জন।
ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৫। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ৮ হাজার ৫৩৩ জন।
নেদারল্যান্ডসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ হাজার ৯৫০ আর মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৯০৩ জনের। বেলজিয়ামে রোগীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮৪৯ জন। মারা গেছে ৯ হাজার ৩৮৮ জন।
তুরস্কে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৯৭ জন আক্রান্ত। ৪ হাজার ৪৩১ জন মারা গেছে।
রাশিয়ায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৫১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে মারা গেছে ৪ হাজার ১৪২ জন।
কানাডায় রোগীর সংখ্যা ৮৭ হাজার ৫১৯। মারা গেছে ৬ হাজার ৭৬৫ জন।
পেরুতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯০৫। মারা গেছে ৩ হাজার ৯৮৩।
ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দেড় লাখ। মারা গেছে ৪ হাজার ৫৪২।
পাকিস্তানে আক্রান্ত ৬১ হাজার ২২৭, মারা গেছে ১ হাজার ২৬০। সৌদি আরবে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ২৮৫ জন হলেও মৃত্যু হয়েছে মাত্র ৪৪১ জনের।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার আর মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৬২৭ জনের। ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ৯৯৫ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩৪ জন।
এ ছাড়া অনেক দেশেই রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে আর মারা গেছে হাজারেরও বেশি মানুষ।