অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রাথমিক তদেন্ত ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের অবহেলা ও নানা অনিয়ম পেয়েছে তদন্ত কমিটি। গতকাল শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গঠন করা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীর স্বজনদের সাক্ষ্য নিয়েছে। এদিকে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ গতকাল শনিবার থেকে পুনরায় করোনা ইউনিট চালু করেছে।
গত বুধবার রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে পুলিশ সুপার আবদুল আহাদকে (এডিসি গুলশান হিসেবে কর্মরত) প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করে ডিএমপি। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রফিকুল ইসলাম ও গুলশান থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান।
কমিটির প্রধানের কাছে তদন্ত অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরব। তদন্তকালে কোনো মন্তব্য করা সঠিক হবে না।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ সদস্য বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে হাসপাতালে বেশকিছু অনিয়ম ও অবহেলার চিত্র পাওয়া গেছে। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ ফায়ার হাইট্রেন্ড চালু করেনি। আগুন লাগার পর রোগীদের বাঁচানোর যথেষ্ট চেষ্টা নিয়েও সন্দেহ আছে। বিভিন্ন জনের সাক্ষ্য নিয়ে বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে।’
এদিকে একই ঘটনা পৃথকভাবে তদন্ত করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্র্তৃপক্ষ। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই আগুন লাগার কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে আমরা দেখেছি হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দাহ্য পদার্থ ছিল। অনেক স্যানিটাইজার মজুদ ছিল। ওই ওয়ার্ড তৈরিতে তাঁবু ও বোর্ড ব্যবহার করা হয়েছিল। আগুন লাগার পরপরই এই দাহ্য পদার্থের কারণে তা দ্রুত ছড়ায়।’
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির একজন সদস্য জানান, হাসপাতালের সম্প্রসারিত অংশে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা অপ্রতুল ছিল। ফায়ার ফাইটার, ফায়ার ড্রিল ও ফায়ার টিম ছিল না। ১১টি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের মধ্যে মাত্র তিনটির মেয়াদ ছিল। অন্য আটটি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল। ফায়ার হাইড্রেন্ট থাকলেও সেটি কে চালাবে, কে কাজ করবে, কার কী দায়িত্ব সেগুলো সুনির্দিষ্ট করা ছিল না।
করোনা ইউনিট ফের চালু : ইউনাইটেড হাসপাতালে করোনা ইউনিট পুনরায় চালু করা হয়েছে। হাসপাতালের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান ডা. সাগুফা আনোয়ার জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে মূল ভবনের ৬ তলায় গতকাল শনিবার থেকে আবার করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়েছে। হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
গত বুধবার রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালের বর্ধিত অংশের করোনা ইউনিটে আগুন লেগে প্রাণ হারান মোহাম্মদ মাহবুব (৫০), মনির হোসেন (৭৫), ভেরন অ্যান্থনি পল (৭৪), খোদেজা বেগম (৭০) ও রিয়াজুল আলম (৫০)। তাদের মধ্যে প্রথম তিনজন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস, ডিএমপি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আলাদাভাবে তদন্ত করছে।