ত্রাণে অনিয়মের অভিযোগ নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

ত্রাণ বিতরণসহ মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, উৎকোচ গ্রহণসহ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার সদর ইউনিয়নের নারী সদস্য (মেম্বার) বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কয়েকবার মানববন্ধনসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেছে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক নারী-পুরুষ। এ-সময় সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহিপুর থানার সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নিমাই চন্দ্র দাসের পরলোকগমনের পর ওই ওয়ার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সদস্য বিউটি বেগম। এ সুযোগে ত্রাণ বিতরণসহ মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকা প্রণয়নে স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করেন বিউটি বেগম। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের দেওয়া ত্রাণ বিতরণে ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ কাউকে তোয়াক্কা করছেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

নারী ইউপি সদস্য বিউটি বেগমের এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে দু’দফা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তোভোগীরা। এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। ছায়া রানী জানান, তার ভাতিজিকে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়ার আশ্বাসে তার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়েও নাম তালিকাভুক্ত করেনি। বরং বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন ইউপি সদস্য বিউটি বেগম।

সাবিনা আক্তার জানান, মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়ার জন্য তার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা নিয়েছেন বিউটি বেগম। কিছুদিন পর তালিকা থেকে তার নাম বাদ দিয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে উপজেলা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনের মাধ্যমে পুনরায় তার নাম তালিকাভুক্ত করেন। লক্ষ্মী রানী, স্বামী পরিত্যক্তা স্বরজু বালা বলেন, মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে সন্তান নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। ত্রাণের জন্য বিউটি মেম্বারের হাতেপায়ে ধরেও পাইনি।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওয়ার্ড ত্রাণ কমিটির আহ্বায়ক সোহরাব হাওলাদার বলেন, কমিটির সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই বিউটি বেগম ইচ্ছেমতো তালিকা করেছেন।

বিউটি বেগম বলেন, জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ আমাকে ভোটারদের সামনে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ ষড়যন্ত্র করছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. শহিদুল হক বলেন, মহিপুরের ইউপি সদস্যের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি।