বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারীতে মৃত্যুর সংখ্যায় ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ব্রাজিল। কভিড-১৯ সংক্রমণের নতুন কেন্দ্র হয়ে ওঠা লাতিন আমেরিকার দেশটিতে গতকাল সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত ২৯ হাজার ৩৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ওয়ার্ল্ডোমিটারের উপাত্ত জানাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালির পর এখন ব্রাজিলেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। শনাক্ত হওয়া ৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৯৯ জন কভিড-১৯ রোগী নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় শীর্ষস্থানে থাকা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো ধারাবাহিকভাবে এ সংকটকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তিনি ব্রাজিলের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজ্যগুলোতে জারি করা লকডাউনের সমালোচনা করে আসছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ব্রাজিলে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্রুত। দুই সপ্তাহেই দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাজ্যে লাগছে দুই মাস, ফ্রান্সে চার মাস ও ইতালিতে পাঁচ মাস। পরীক্ষার সংখ্যা কম হওয়ায় দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।পরিস্থিতি এমন হলেও প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। গত রবিবার রাজধানীতে মুখে মাস্ক ছাড়াই তাকে শত শত সমর্থকের সঙ্গে মিলিত হতে দেখা গেছে।
ওয়ার্ল্ডোমিটারের উপাত্তে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্বে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে ৬৩ লাখ ১০ হাজার ৮৯১ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৩১ জনের। আরোগ্য লাভ করেছেন ২৮ লাখ ৭০ হাজার ৮৮৩ জন। সবচেয়ে বেশি ১৮ লাখ ৪১ হাজার ৪৪২ রোগী নিয়ে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ২৭২ জনের। এরপর যুক্তরাজ্যে কভিড-১৯-এ মারা গেছে ৩৮ হাজার ৪৮৯ জন, দেশটিতে মোট আক্রান্ত ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬২ জন। ইতালিতে মোট আক্রান্ত ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৯৭ জন, মারা গেছেন ৩৩ হাজার ৪১৫ জন। স্পেনে ২৭ হাজার ১২৭ জন মারা গেলেও আক্রান্ত রোগী ২ লাখ ৮৬ হাজার ৫০৯ জন। ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত ২৮ হাজার ৮০২ জন মারা গেছেন, আক্রান্ত ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮২ জন। আর রাশিয়ায় ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮৭৮ জন আক্রান্ত হলেও মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৮৫৫ জনের।