করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দু’মাসের বেশি সাধারণ ছুটির পর গতকাল সোমবার সারা দেশে চালু হয়েছে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা গণপরিবহন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে নিয়ে সীমিত পরিসরে বাস চালানোর কথা। অনেক দূরপাল্লার বাসে দুই সিটে এক যাত্রীকে বসতে দেখা গেছে। তবে আন্তঃজেলার বিভিন্ন পরিবহন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এদিকে অনেকে ভাড়া বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, করোনাকালে বেশিরভাগ মানুষের আর্থিক অবস্থা খারাপ। এ অবস্থায় কেন ভাড়া বাড়ানো হলো।
খুলনায় আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হওয়ার পর গতকাল খুলনায় সব রুটের যাত্রীবাহী বাস চলু হয়েছে। সোনাডাঙ্গায় যাত্রীদের অভিযোগ, অধিকাংশ বাসের টিকিট কাউন্টারে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। বাসে জীবাণুনাশক ছিটানোর কথা থাকলেও অনেক পরিবহনই তা মানছে না। যাত্রীরাও অধিকাংশই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। যাত্রীদের অভিযোগ, এই সময়ে মানুষের আর্থিক অবস্থা খারাপ। তাই ভাড়া বাড়ানো ঠিক হয়নি।
তবে খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারা হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দূরপাল্লার বাস চালু হয়েছে। ১৮-২০ জনের বেশি যাত্রী নেওয়া হচ্ছে না। দুইটি আসনের একটি খালি রেখে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। ভাড়া সরকারি নির্দেশনা মতোই নেওয়া হচ্ছে।
আমাদের ফরিদপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল ফরিদপুর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া বাসে দেখা গেছে যাত্রীদের ভিড়। যাত্রীদের অভিযোগ, দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা উভয় বাসেই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ। আবার দূরপাল্লার বাসে দুই সিটে এক যাত্রী নেওয়া হলেও আন্তঃজেলার পরিবহনে যাত্রী কম নেওয়ার নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। যাত্রীদের ওঠানোর আগে বাসগুলোতে জীবাণুনাশক ছিটানোর নির্দেশনাও মানছে না অধিকাংশ পরিবহনই। তবে বাস চলাচলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শ্রমিকদের অনেকে। বোয়ালমারীর দাদপুর ইউনিয়নের রাসেল আহমেদ বলেন, ঢাকার গাবতলী যাওয়ার জন্য ৬০০ টাকা দিয়ে ফরিদপুর কাউন্টার থেকে গোল্ডেন লাইন বাসে দুই সিটের টিকিট কেটেছি। এ ব্যাপারে গোল্ডেন লাইনের টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক অলোক সেন বলেন, যেহেতু দু’টি সিটে এক যাত্রী নিতে হচ্ছে এজন্য ভাড়া একটু বেড়েছে।
ফরিদপুরের হাইওয়ে পুলিশের ওসি শাহ্ জালাল আলম বলেন, দীর্ঘদিন পর বাস চলাচল শুরু হয়েছে। অবশ্য অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। আমরা কঠোরভাবে নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে সবাই নিয়ম মানেন।
আমাদের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল টাঙ্গাইলে দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। পণ্যবাহী যান, মাইক্রোবাস, অটো রিকশা ও লেগুনাও চলে। তবে তাতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে যাত্রীবাহী বাসচালকরা বলেন, শুধু বাস চলাচলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হচ্ছে, অন্য গাড়িগুলোতে তো কোনো বাধা নেই। বাসযাত্রীদের অনেকে বলেন, আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি, তারপরও যেহেতু শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে, তাই কয়েকগুণ ভাড়া দিয়েও চলাচল করছি।
টাঙ্গাইল নিরালা বাসের চালক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘মাস দুয়েক পর গাড়ি চালাচ্ছি। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।’
নিরালা বাসের আরেক চালক মজিবর বলেন, ‘হায় রে আইন! বাসে ঠিকই চেক হইতাছে। আপনারাই দেহেন এক মাইক্রোতে ১২ জন। সিএনজির পিছনেই ৩ জন।’
গতকাল সকালে এলেঙ্গাতে দায়িত্ব পালনকালে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমারা মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছি, যাতে যানবাহনগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে।’
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, রাজশাহীতে গতকাল বাড়তি চাপ ছিল বাসে। একতা ট্রান্সপোর্ট রাজশাহী জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম সুমন বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গাড়িতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে লেগেছে মেরামত করতে। এছাড়াও গাড়িগুলোকে জীবাণুনাশক ও সিট কভার, জানালার পর্দা এসব পরিবর্তন, ব্যাগেজে স্প্রের ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাড়তি ভাড়া নিয়েও প্রতি ট্রিপে আমাদের ৬ হাজারেরও বেশি টাকা লোকসান হচ্ছে। রাজশাহী থেকে ঢাকা রুটে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়ে ৭৬০ টাকা করে প্রতি টিকিটের দাম রাখা হয়েছে। সব স্টাফের সুরক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বর্তমানে যাত্রীদের বাড়তি চাপ রয়েছে। আগামী ৩ জুন পর্যন্ত আমাদের কোনো টিকিট নেই।
রাজশাহী রেলস্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল করিম বলেন, আমাদের একটি মাত্র ট্রেন চলাচল করছে। তবে আগামী তিন তারিখ থেকে আরও দুইটি ট্রেন চলাচল শুরু হবে। রাজশাহী-খুলনা কপোতাক্ষ ও রাজশাহী-রাজবাড়ী মধুমতি ট্রেন চালু হবে। পর্যায়ক্রমে আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।