সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি খাইয়রুল ইসলামকে বুধবার সকালে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মহাসড়কে উচ্চ আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও প্রাণহানির ঘটনায় তাকে প্রত্যাহার হয়।
হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিষয়টি বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের শাহজাদপুর উপজেলার মশিপুর কবরস্থানের সামনে পাবনা থেকে ঢাকাগামী সরকার ট্রাভেলর্সের ধাক্কায় অবৈধভাবে চলাচলরত একটি অটোভ্যান উল্টে যায়।
এতে শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের নগরডালা গ্রামের বাবা-মা ও মেয়েসহ তিনজন প্রাণ হারায়।
এ ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার দায়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি খাইয়রুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি খাইরুল ইসলাম প্রত্যাহারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এদিন বিকেলের মধ্যে আমি সেখানে গিয়ে সংযুক্ত হব।
এদিকে, প্রত্যাহারকৃত ওসির বিপরীতে স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. নুরুন্নবী।
একটি সূত্র থেকে জানা যায়, চলমান করোনার মধ্যে উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ হয়ে সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে অনৈতিকভাবে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ প্রদান এবং অবৈধ থ্রি-হুইলার, কাটা-মাইক্রো, নসিমন, করিমন, ভটভটি,অটোভ্যানসহ পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে যাত্রী চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া ও মহাসড়কে অবৈধ চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া স্থানীয় একটি দালাল চক্র হাটিকুমরুল মোড়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি করলেও অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি এড়িয়ে চলতেন ওসি খায়রুল ইসলাম।
এসব নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ যায়।
এর মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের শাহজাদপুর উপজেলার মশিপুর কবরস্থানের সামনে পাবনা থেকে ঢাকাগামী সরকার ট্রাভেলের্সের ধাক্কায় অবৈধভাবে চলাচলরত একটি অটোভ্যান উল্টে বাবা-মা ও মেয়েসহ ৩ জন প্রাণ হারায়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবর প্রকাশ হলে হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। ফলে ওই ঘটনায় হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি খাইয়রুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়।
চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি খায়রুল ইসলামের সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ সংক্রান্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।