‘বিদেশে চিকিৎসার দরকার হতে পারে খালেদা জিয়ার’

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারামুক্ত হওয়ার পর গত দুই মাসে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে তার ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিএনপি  চেয়ারপারসনের চিকিৎসায় গঠিত টিমের প্রধান দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সম্প্রতি দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার ব্যাপারে লন্ডন থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। তার নির্দেশনায় দলের চিকিৎসকরা চেয়ারপারসনকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিগত দিনে চেয়ারপারসন দেশের বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন পুরোপুরি সুস্থ হতে হলে তাকে দেশের বাইরে যেতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজনে আদালতের নির্দেশনা নিতে হবে। 

গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। কারামুক্তির প্রায় দুই মাসের মাথায় রোজার ঈদের দিন সন্ধ্যায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ কয়েক নেতাকে সাক্ষাৎ দেন তিনি। করোনা পরিস্থিতির কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ওই সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি মহাসচিব বলেছিলেন, উন্নতি যেটুকু হয়েছে, তা হচ্ছে তার মানসিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। শারীরিক অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।

মির্জা ফখরুলসহ সেদিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে আরও যারা সাক্ষাৎ করেছিলেন তারা হলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেদিন বিছানায় বসে নয়, চেয়ারে বসে নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন খালেদা জিয়া। চেয়ারপারসনের সঙ্গে বেশিরভাগ কথা হয় করোনাভাইরাস ও দেশবাসী কেমন আছে তা নিয়ে। চেয়ারপারসন কমই বলেছেন, শুনেছেন বেশি। পরিবারের মাঝে থাকায় তার মানসিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে ধীরে ধীরে। করোনা পরিস্থিতিতে দলের নেতাদের দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, শারীরিক অবস্থার চেয়ে মানসিকভাবে শক্তিশালী আছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাতে খালেদা জিয়া তাদের জানিয়েছেন, তার কাছে যে কয়েকটি পত্রিকা যেত তা তিনি বিস্তারিত পড়তেন। একই সংবাদ পাঁচবারও পড়েছেন। দলের নেতারা কে কী করেছেন তা তার জানা আছে।

খালেদা জিয়ার ছোটভাই শামীম ইসকান্দার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে নির্বাহী আদেশে তার মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছিলেন গত ১০ মার্চ। এরপর ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ৬ মাসের জন্য মুক্তি পান তিনি। মুক্তির পর তার বোন সেলিমা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পরিবারের আবেদনের পাশাপাশি করোনাভাইরাস পরিস্থিতি তার মুক্তির বিষয়টি ত্বরান্বিত করেছে বলে তারা মনে করেন।