মানবিকতার বিপণন লস্ট স্টক

করোনা সংকটকালে বাংলাদেশি পোশাকশ্রমিকদের সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটিশ শপিং অ্যাপ মলজি। তারা বিখ্যাত ব্র্যান্ডের বাতিল করা পোশাক বিক্রি করে সেই টাকার একটা অংশ পাঠাবে পোশাকশ্রমিকদের ত্রাণ হিসেবে। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে লস্ট স্টক।

আন্ডার মলজিস লস্ট স্টক নামে তারা ৩৫ পাউন্ডে পোশাকভর্তি একটি বাক্স বিক্রি করছে। ক্রেতারা পণ্য দেখার সুযোগ পান না। ফলে অনেকটা চোখ বন্ধ করে সেগুলো কিনতে হচ্ছে তাদের।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, মলজি তাদের এ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৩৭ শতাংশ বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের ত্রাণ হিসেবে দেবে। বাংলাদেশের সাজেদা ফাউন্ডেশন এ কাজে তাদের সাহায্য করছে।

বিশ^জুড়ে কভিড-১৯ মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর বিশে^র অনেক বিখ্যাত ব্র্যান্ড লকডাউনের কারণে বেচা-বিক্রি ও ব্যবসা বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটে পড়ার দোহাই দিয়ে বাংলাদেশে তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে। তবে তত দিনে অনেক পোশাক তৈরি হয়ে গেছে।

ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার কারণে গুদামে বাতিলের খাতায় চলে যাওয়া ওই সব পোশাকই বাক্সে ভরে বিক্রির উদ্যোগ নেয় অনলাইন শপিং অ্যাপ মলজি।

এডিনবরাভিত্তিক এ কোম্পানির মুখপাত্র মেলানি গ্রে বলেন, ‘আমরা আমাদের কোম্পানির মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে বাতিল হয়ে যাওয়া পোশাকের চালানের সংযোগ ঘটিয়ে দিচ্ছি। এর মাধ্যমে আমরা পোশাকশ্রমিকদের সাহায্যের পাশাপাশি বাতিল হওয়া পোশাক ভাগাড়ে চলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে চাই।

বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন মনজির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা এটাও বলেছে, এর ফলে হয়তো বড় বড় ব্র্যান্ড গণহারে ক্রয়াদেশ বাতিল করবে। সেটা হলে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে তাদের জীবন যাপনই ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।

তবে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক বলেন, ‘লস্ট স্টক’-এর মতো উদ্যোগ এখন ‘অপরিহার্য’।

বিজিএমইএর সভাপতি গত সপ্তাহেই করোনাভাইরাস মহামারীর সুযোগ নিয়ে বিদেশি ক্রেতারা পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধ না করে ‘ডিসকাউন্টের’ দাবি তুললে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন। ব্রিটিশ একটি পোশাক ব্র্যান্ডকে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ পোশাকশ্রমিক। অনেক পরিবার পোশাকশিল্প খাতের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে। বিশ^জুড়ে করোনাভাইরাস মহামারীতে বাংলাদেশে  পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়ে যায়। ফলে অনেক পোশাক মালিক কোটি কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়ে কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। কোথাও শ্রমিকদের বেতন বকেয়া পড়ে। কোথাও কারখানা লে অফ ঘোষণা করা হয়। কেউ কেউ শ্রমিক ছাঁটাই করে খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নেন।