বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, করোনাভাইরাসের শুরু থেকে সরকারের উদাসীনতা, সমন্বয়হীনতা ও ব্যর্থতার কারণে আজকে দেশে সংক্রমণ বাড়ছে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার মানসিকতা নেই সরকারের। এখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণকে বাঁচাতে হবে।’
নাগরিক ঐক্যের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘দুর্ভিক্ষ, মহামারী থেকে বাঁচতে কল্যাণ রাষ্ট্রের বিকল্প নেই’ শীর্ষক এ সভা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় শুরুতেই সরকার রাজনীতিবিদের সম্পৃক্ত করেনি। প্রথমে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও পরে প্রশাসন দিয়ে করোনা মোকাবিলার চেষ্টা করেছে। জনগণের সঙ্গে রাজনীতিবিদরা সম্পৃক্ত থাকেন। প্রথমে রাজনীতিবিদদের দিয়ে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হলে আজকে করোনা পরিস্থিতি এত চরম পর্যায়ে আসত না।’ তিনি বলেন, ‘প্রথমে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। তখন ঢাকা থেকে মানুষ গ্রামে যায়। করোনাভাইরাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আবার ছুটি বাতিল করায় সারা দেশ থেকে মানুষ ঢাকায় ফেরে। ফলশ্রুতিতে ঢাকায় ব্যাপক সংক্রমণ হয়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাছাড়া বিদেশ থেকে যে ছয় লাখ প্রবাসী দেশে ফেরেন তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা যায়নি। প্রতিরোধ করা যায়নি। এখন সব খুলে দিয়ে দেশকে চরম এক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। আজকে করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করে তিনি।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।