করোনা টেস্ট বুথ নিয়ে তিতুমীর কলেজে সংঘর্ষ, আহত ১৬

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে স্থাপিত করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ বুথের স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কলেজের কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতের এই সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। ওই সংঘর্ষের জেরে গতকাল বুধবারও কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ছিল।

নমুনা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জেকেজি হেলথকেয়ারের স্বেচ্ছাসেবীদের অভিযোগ, কলেজের কর্মচারীরা অনেক দিন ধরে তাদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করছে। তাদের চাওয়া, যেন কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে করোনা টেস্টের জন্য স্থাপিত বুথগুলো উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এজন্য কলেজ কর্মচারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।   তবে কলেজ কর্মচারীদের ভাষ্য ভিন্ন।

বনানী থানার ওসি নূরে আযম মিয়া গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। যদিও কলেজ কর্র্তৃপক্ষ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জেকেজি হেলথকেয়ারের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ জানায়নি।’

পুলিশ কর্মকর্তা নূরে আযম আরও বলেন, ‘কলেজের অধ্যক্ষ বলেছেন, তাদের অধিকাংশ আবাসিক বাসিন্দা মারধরের শিকার হয়েছেন। আবার জেকেজি হেলথকেয়ারের কর্মীরা বলছেন, তাদের বেশি মারধর করা হয়েছে।’

জেকেজি হেলথকেয়ারের স্বেচ্ছাসেবীরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জন জেকেজি হেলথকেয়ারে কর্মী।

তবে কলেজ কর্মচারীদের ভাষ্য, গত সোমবার রাতে জেকেজির এক নারী কর্মী এক ভবন থেকে আরেক ভবনে এক পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তারা বাধা দেন। এর জের ধরে মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে স্বাস্থ্যকর্মীরা কলেজের আবাসিক বাসিন্দাদের ঢালাওভাবে মারধর করে। কলেজ অধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন পুলিশের কাছে জানিয়েছেন, জেকেজির কর্মীরা বাইরে থেকে সন্ত্রাসী এনে তাদের স্বল্পসংখ্যক কর্মচারীর ওপর হামলা চালিয়েছে। কর্মচারীদের বাড়িঘর তছনছ করেছে। কলেজের গাড়িচালক সাহাবুদ্দিনের হাতে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। অন্যদিকে জেকেজি হেলথ কেয়ারের আহ্বায়ক ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী পাল্টা অভিযোগ এনে বলেছেন, কলেজ কর্মচারীরা তাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার জন্য এই হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ‘কলেজের কর্মচারীরা রাতে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। হুমায়ুন নামে একজনকে তারা গুরুতর জখম করে। এসব কর্মচারী এবং তাদের বাহিনীর হামলায় আমাদের ১০ জন এখন হাসপাতালে ভর্তি। যারা আছেন তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।’

কলেজ ও হোস্টেল বন্ধ থাকায় বর্তমানে সেখানে ছাত্র-শিক্ষক কেউ না থাকলেও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ২০-২২ কর্মচারী রয়েছেন। তাদের অনেকের পরিবারও রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় তাদের অন্তত ১০টি মোবাইল ফোন সেট চুরি হয়েছে, যার সঙ্গে কলেজের আবাসিক বাসিন্দাদের যোগসাজশ রয়েছে।