ত্রাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল বাংলাদেশ অনেক কাজ সহজ করেছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০৮ সালে আমরা যখন নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করি তখন বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করব, এটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। আজকে আমি বলব সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা করতে পেরেছি বলেই আমাদের অনেক কাজ সহজ হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণকালে তিনি এ কথা বলেন। ত্রাণ তহবিলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুদান ও চিকিৎসাসামগ্রী গ্রহণ করেন মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস। যারা অনুদান দিয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। করোনায় যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, মানুষকে সহযোগিতা দেওয়া, তাদের কাছে নগদ টাকা পৌঁছানো, চিকিৎসাসেবা দেওয়া বা ঘরে বসে চিকিৎসা পরামর্শ যাতে পেতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা, ব্যবসা বাণিজ্য চালানো, ক্রয়-বিক্রয়, আত্মীয়-স্বজন বা আপনজনের সঙ্গে কথা বলা বা সাক্ষাৎ সবকিছুই এখন অনলাইনের মাধ্যমে মানুষ করতে পারছে। আমরা যদি এই ডিজিটাল বাংলাদেশ না করতাম বা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ যদি উৎক্ষেপণ না করতাম এবং বাংলাদেশটা যদি একটা নেটওয়ার্কের মধ্যে না আসত তাহলে হয়তো এই কাজগুলো করা সম্ভব হতো না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ে দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।  সরকারের পক্ষ থেকে আমরা করেছি, আমাদের দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে করেছি। অনেক বিত্তশালী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এই আন্তরিকতাটুকু আছে বলে কর্মহীন, অসহায় মানুষেরা এখনো খেতে পারছে বা চলতে পারছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনা মোকাবিলা করে দেশ এগিয়ে যাবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা ব্যাপকভাবে ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি এবং আমরা দিয়ে যাচ্ছি। কভিড-১৯ রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। করোনার টেস্ট ও চিকিৎসা দুটোই সরকারি উদ্যোগে বিনা পয়সায় হচ্ছে। প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষ সবার কাছে যেন আমরা কিছু না কিছু সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারা যেন কষ্ট না পায়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে চলে, সেদিকে লক্ষ রেখে শিল্প থেকে শুরু করে সর্বস্তরের সবাই যেন কার্যক্রম চালাতে পারে সেই লক্ষ্যে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু অর্থনীতি স্থবির অবস্থায় রয়েছে, সেজন্য আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্র এখন উন্মুক্ত করছি। কারণ মানুষকে তো আমাদের বাঁচাতে হবে। আমরা মানুষের কল্যাণের কথা ভেবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সবসময় জনগণের কল্যাণেই কাজ করি। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করা, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়াসহ সব বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।’

আলীবাবা ও জ্যাক মা ফাউন্ডেশনের স্বাস্থ্যসামগ্রী প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে হস্তান্তর বিকাশের করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিলে চীনের আলীবাবা ফাউন্ডেশন এবং জ্যাক মা ফাউন্ডেশনের দেওয়া ৫০টি ভেন্টিলেটরসহ ছয় লাখ জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী হস্তান্তর করেছে বিকাশ। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের কাছে এসব জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী হস্তান্তর করেন বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকাশের চিফ এক্সটারনাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মো. মনিরুল ইসলাম।

বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, আমরা আনন্দিত বাংলাদেশের মানুষের জন্য আলীবাবা ফাউন্ডেশন এবং জ্যাক মা ফাউন্ডেশন এসব স্বাস্থ্যসামগ্রী পাঠিয়েছে বলে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে অংশগ্রহণই কেবল নয়, এদেশের মানুষের ভালো থাকা নিয়েও জ্যাক মা এবং তার প্রতিষ্ঠান দুটি সচেতন। বিজ্ঞপ্তি