মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে মেক্সিকোতে এক দিনে রেকর্ড ১০৯২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত বুধবার ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে রেকর্ড এই মৃত্যুর পাশাপাশি শনাক্তও হয়েছে রেকর্ড ৩ হাজার ৯১২ জন। এই হিসাবে করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুতে ওইদিন মেক্সিকো প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাপিয়ে যায়। বুধবার প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে।
মেক্সিকোতে এর আগে কভিড-১৯-এ এক দিনে সর্বোচ্চ ৫০১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছিল। ভাইরাস শনাক্তে অনেক কম পরীক্ষা হওয়ার কারণে দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না বলে সমালোচকরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছিলেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, রাজধানী মেক্সিকো সিটি কর্র্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করার পর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে দেখা গেল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লাতিন আমেরিকাই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ওই অঞ্চলের মধ্যে ব্রাজিলে বুধবারও রেকর্ড মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মেক্সিকো সরকার প্রথম দিকে দেশটিতে ভাইরাসের সংক্রমণ মে মাসের শুরুতেই ‘সর্বোচ্চ শিখরে’ উঠবে বলে ধারণা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের চাপে সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কার মধ্যেই দেশটি তাদের বৃহৎ অটো খাত ফের চালুও করে দেয়; এই খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সাপ্লাই চেইনের কয়েক বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা নির্ভর করছে।
চলতি সপ্তাহ থেকে মেক্সিকোতে বিধিনিষেধ আরও শিথিল হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় দেশটিতে সহসাই সংক্রমণের হার হ্রাস পাবে না বলেই অনুমান করা হচ্ছে।
লাতিন আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশটিতে এরই মধ্যে কভিড-১৯-এ শনাক্ত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাস মেক্সিকোর ১১ হাজার ৭২৯ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্য জানাচ্ছে; এর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যায় লাতিনের এ দেশটি বিশ্বের মধ্যে সপ্তম স্থানে উঠে এলো।
শনাক্ত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃতের সংখ্যায় শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় দুপুর নাগাদ দেশটিতে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৫২০ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ১৭৫ ছিল।
অপরদিকে ওই অঞ্চলের ব্রাজিল শনাক্ত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে আছে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৮৪ হাজার ১৬ জন ও এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩২ হাজার ৫৪৮ জনের।