১৩ বছরের সর্বনিম্ন লেনদেন ডিএসইতে

নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেঁধে দেওয়া ফ্লোর প্রাইসকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। এ কারণে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজগুলোর বিপুল পরিমাণের বিক্রির আদেশ থাকলেও ক্রেতারা তাতে প্ররোচিত হচ্ছেন না। ফলস্বরূপ শেয়ারের কেনাবেচা তলানিতে নেমে গেছে। পর্যাপ্ত ক্রেতার অভাবে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন নেমে এসেছে মাত্র ৪৩ কোটি টাকায়, যা ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। করোনাভাইরাসের কারণে ৬৬ দিন পর পুঁজিবাজার চালুর এক সপ্তাহের মধ্যে ফ্লোর প্রাইস আরোপের কারণে এমন বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

করোনাভাইরাসে সৃষ্ট মন্দার প্রভাব এড়াতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের পরামর্শে গত ১৯ মার্চ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজগুলোর ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশির ভাগ শেয়ারের দর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে এক দিনেই সূচক বাড়ে ১০ শতাংশর বেশি। তবে ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেওয়ার পর থেকেই স্টক এক্সচেঞ্জে স্বাভাবিক লেনদেন হচ্ছে না। প্রায় সব শেয়ারে বিপুল পরিমাণের বিক্রয়াদেশ থাকলেও ক্রেতা না থাকায় শেয়ার হাতবদল হচ্ছে না।

এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্লোর প্রাইসের নিচে কোনো সিকিউরিটিজের দর নামতে পারবে না। তবে বিদ্যমান ক্রেতারা মনে করছেন, ফ্লোর প্রাইস ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি। এ কারণে শেয়ার ক্রয় করতে আগ্রহী হচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি শেয়ারের দর অপরিবর্তিত থাকছে। এমন পরিস্থিতিতে লেনদেনও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। লেনদেন কমে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে মাত্র ৪২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন। ২০০৭ সালের ২৪ এপ্রিল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছিল ৪০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার।

পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, মহামারী করোনাভাইরাসে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব ঠেকাতে আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও ফ্লোর প্রাইসের কারণে স্বাভাবিক লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে, তবে এর মাধ্যমে বড় ধরনের পতন ঠেকানো গেছে। এখন বাজেটে যদি পুঁজিবাজারের জন্য ভালো কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে আবার বর্তমানের চিত্র পাল্টে যেতে পারে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত চার কার্যদিবসের টানা পতনে বেশির ভাগ শেয়ারের দর ফ্লোর প্রাইসে নেমে এসেছে। যেহেতু নির্ধারিত ওই দরের চেয়ে আর কমার সুযোগ নেই, তাই সূচক পতনের পরিমাণও কমে আসছে। তবে এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বিক্রেতারা। তারা চাইলেও শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। এতে পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হচ্ছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩০৯টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৮৪ শতাংশের দর অপরিবর্তিত ছিল। আর ৪৯টি সিকিউরিটিজের কোনো লেনদেনই হয়নি। ১৯ মার্চ ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণের পর থেকেই বাজারে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩০৯টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ১১টির ও কমেছে ৩৬টির। বেক্সিমকো ফার্মা, উত্তরা ব্যাংক, এসিআই লিমিটেড, এনসিসি ব্যাংকসহ বড় মূলধনী কিছু কোম্পানির শেয়ার দর কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি কমেছে ১০ পয়েন্ট। এতে সূচকটি নেমে এসেছে ৩৯৫৩ পয়েন্টে। গতকাল লিন্ডে বিডি, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি ও এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে।

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে মাত্র ১০৩টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে দর বেড়েছে ৯টির, কমেছে ১৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৫টির। সিএসইতে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সংখ্যা ৩৩১টি। এর মধ্যে ২২৮টি সিকিউরিটিজের গতকাল  কোনো লেনদেন হয়নি। গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার। প্রভাবশালী কয়েকটি কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে গতকাল সিএসইর নির্বাচিত খাতগুলোর সূচক নামমাত্র বেড়েছে।