আটালান্টার রূপকথা এবং করোনাভাইরাসের ‘গেইম জিরো’

রূপকথার মতো যাত্রা ছিল তাদের। প্রথমবারের মর্যাদাপূর্ণ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে পৌঁছে গিয়েছিল ইতালির দল আটালান্টা। দুই লিগ মিলিয়ে পরের পর্বেও উঠে গিয়েছে। কিন্তু সান সিরোর ৪৪ হাজার দর্শকের সামনে আয়োজিত তাদের সেই ম্যাচটি বদলে দিয়েছে ইউরোপে কভিড-১৯ সংক্রমণের সব গতিপথ। ইউরোপিয়ান কভিডের সেই গেইম জিরো আর পরবর্তী অবস্থা নিয়ে লিখছেন জুবায়ের আহাম্মেদ

আটালান্টার উত্থান

উত্তর ইতালির লম্বার্দি অঞ্চলের ছোট শহর বের্গামো। সেই শহরের ফুটবল ক্লাব আটালান্টা। আজ থেকে বছর দুয়েক আগেও আটালান্টা নিয়ে ফুটবলের পাড় ভক্তদেরও অনেকেই জানতেন না বিশেষ কিছু। অথচ ক্লাবের বয়স প্রায় ১১২ বছর। আক্ষরিক অর্থেই বেশ ছোট ক্লাব বলা চলে তাদের। নিজেদের ইতিহাসে এবারই প্রথম ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ‘উয়েফা চ্যম্পিয়ন্স লিগ’ খেলতে এসেছিল আটালান্টা।

রূপকথার মতোই যাত্রা ছিল তাদের। আগের মৌসুমেই লিগে তৃতীয় হওয়ার সুবাদে সরাসরি জায়গা পায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। গ্রুপে প্রথম তিন ম্যাচ হারলেও ঠিকই পরে ফিরে এসে নকআউটে জায়গা করে নেয় বের্গামো থেকে আসা দলটি। দলটির স্টেডিয়াম এতই ছোট যে, তারা বাধ্য হয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচগুলো ইতালির মিলান শহরের বিখ্যাত স্টেডিয়াম ‘সান সিরো’তে আয়োজন করতে।

নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল স্পেনের দল ভ্যালেন্সিয়া। সান সিরো স্টেডিয়ামে ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম লেগের ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। সেদিন স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৪৪ হাজারের সিংহভাগ মানুষ এসেছিলেন বের্গামো থেকে। ঘরের মাঠে খেলার ফল দিয়ে নিরাশ করেনি আটালান্টা। শক্তিশালী ভ্যালেন্সিয়াকে তারা উড়িয়ে দেয় ৪-১ গোলে। কিন্তু তারপরেই বদলে গেল ইতালি এবং স্পেনের অবস্থা। ফিরতি লেগে ভ্যালেন্সিয়ার মাঠ মেসতায়ায় ম্যাচ হয় দর্শকশূন্য অবস্থায়। এবং সেদিনই বন্ধ হয়ে যায় ফুটবল। কারণটা সবার জানা, কভিড-১৯।

কী হয়েছিল সান সিরোতে

আগেই যেমনটা বলা হয়েছে, বের্গামোতে আটালান্টার নিজস্ব মাঠ দর্শন ধারণ বিচারে খুবই ছোট। ‘স্তাদিও আটলেতি আজ্জুরি ডি ইতালিয়া’ নামের সেই স্টেডিয়ামে দর্শকধারণ ক্ষমতা কেবল ২১ হাজার। অন্যদিকে মিলানের বিখ্যাত স্টেডিয়াম সান সিরো। ঐতিহ্যবাহী দুই ক্লাব এসি মিলান এবং ইন্টার মিলানের নিজস্ব মাঠ সান সিরোতে দর্শক ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৮০ হাজার। আর এই মাঠেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলছিল আটালান্টা। স্পেনের ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গেও ম্যাচটি হয়েছিল এই মাঠেই। বের্গামো থেকে সেদিন সান সিরোতে নিজ দলকে সমর্থন জানাতে এসেছিলেন প্রায় হাজার চল্লিশেক মানুষ। স্পেন থেকে এসেছিলেন প্রায় আড়াই হাজার ভ্যালেন্সিয়া সমর্থক। সেই সঙ্গে মিডিয়া এবং অন্যান্য উপস্থিতি তো আছেই। এদের সামনেই দাপুটে জয় পায় আটালান্টা। আর ফুটবল মানেই যেখানে পরতে পরতে উত্তেজনা, সেখানে স্বাগতিক দলের জয় মানেই বাড়তি কিছু। স্বাভাবিকভাবেই গ্যালারিতে দর্শকরা একে অন্যকে আনন্দে আলিঙ্গন করেছেন। জয় উদযাপন করেছেন। স্টেডিয়ামের বাইরে আর শহরের অলিতে-গলিতে হয়েছিল আনন্দ মিছিল। আর একই হারে ছড়িয়েছে কভিড-১৯।

 ২০২০ সালের একেবারেই শুরুর দিকে কভিড-১৯ নিয়ে চীন ছাড়া আর কোনো রাষ্ট্রই সচেতন ছিল না। রীতিমতো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়া দুই দেশ স্পেন এবং ইতালিতেও ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত খুব বেশি রোগী ছিল না। কিন্তু সান সিরোর এই এক ম্যাচ যেন পারমাণবিক বোমা হয়ে দাঁড়াল দেশ দুটির জন্য। ফুটবল ম্যাচে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যেমন সম্ভব ছিল না। ঠিক তেমনিভাবে ওই সময় কেউই খুব বেশি সতর্ক ছিলেন না। পরে ইতালিতে কভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাগলা ঘোড়ার মতো লাগামছাড়া হয়ে পড়লে অনুসন্ধানে নামে প্রশাসন। সেখান থেকে উঠে আসে সান সিরোর এই ম্যাচটির কথা। বিশেষজ্ঞরা যার নামকরণ করেছেন ‘গেইম জিরো’।

‘গেইম জিরো’ পরবর্তী করোনা পরিস্থিতি

বের্গামো মেয়র জর্জিও গোরি বলেছিলেন, ‘এটি পরিষ্কার যে, সেদিন সন্ধ্যায় যে বিজয় উৎসব হয়েছিল সেখান থেকেই ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।’

সত্যিকার অর্থে তাই ঘটেছিল। ম্যাচের ঠিক দুদিন পর বের্গামো শহরে প্রথম কভিড রোগী শনাক্ত করা হয়। কিন্তু তিনি যে সত্যিই কভিডে আক্রান্ত তা শনাক্ত করতে পারেনি স্থানীয় হাসপাতাল। একে একে ম্যাচ ফেরত অনেক সমর্থকই আক্রান্ত হন কভিড-১৯ ভাইরাসে। এমনকি ভ্যালেন্সিয়া ফুটবল ক্লাবেরও ৩৫ শতাংশ খেলোয়াড় ও স্টাফ সেদিনের ম্যাচের পর করোনা টেস্টে পজিটিভ হয়েছিলেন।

সান সিরোর সেই ম্যাচের পর আটালান্টা ফুটবল দল নিজ স্টেডিয়ামে ফিরে গেলেও সান সিরোতে ছাপ রেখে গিয়েছিল। যার ফলাফল হিসেবে পরবর্তী সময়ে সান সিরোর স্টেডিয়ামে যাওয়া অনেকেই আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ফুটবল বিশ্বের বেশ নামি কিছু মুখ এ তালিকায় আছেন। যার মাঝে আছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ইতালিয়ান খেলোয়াড় পাওলো মালদিনি এবং তার পুত্র ও বর্তমান এসি মিলান খেলোয়াড় ড্যানিয়েল মালদিনি। মালদিনি পরিবারের সংক্রমণের কয়েক ঘণ্টা আগেই করোনা পজিটিভ বলে শনাক্ত হন জুভেন্টাসের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড পাওলো দিবালা, ইতালিয়ান ড্যানিয়েল রুগানি এবং ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ডার ব্লেইস মাতুইদি। যদিও জুভেন্টাস শেষবার খেলেছিল ইন্টারমিলানের বিপক্ষে দর্শকশূন্য মাঠে। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি।

স্পেনের হালচাল

একই সময়ে স্পেনের অবস্থাও ভালো ছিল বলতে গেলে। ম্যাচের জন্য ইতালিতে যাওয়া এক সাংবাদিক করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর জানানোর পর দেখা গেল, তিনি ছিলেন ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের ২য় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি। কিন্তু ততক্ষণে ভাইরাসটি বেশ ভালোভাবেই ছড়িয়ে গিয়েছিল। ম্যাচ শেষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে দাবি করলেও এক সপ্তাহ পরেই ভ্যালেন্সিয়া ক্লাব কর্র্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে দলের প্রায় এক তৃতীয়াংশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত। এরপর রীতিমতো দাবানল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। এক মাসের মাথায় ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৬০০ জন। সান সিরোতে ভ্যালেন্সিয়া দলের প্রথম করোনা পজিটিভ হন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ইজাকুয়েল গারাই। পরের সপ্তাহেই ভ্যালেন্সিয়া নেমেছিল স্প্যানিশ দল আলাভেসের বিপক্ষে। পরবর্তী আলাভেস ক্লাব কর্র্তৃপক্ষ জানায়, আলাভেসের মোট ১৫ জন খেলোয়াড়-কর্মকর্তা কভিড-১৯ এ আক্রান্ত।

ভাইরাসের বীজ যে গেম জিরোর রাতেই বোনা হয়েছিল, সে বিষয়ে সম্ভবত এরপর বুঝতে পেরেছিল ক্লাবের সবাই।

ম্যাচ-পরবর্তী বের্গামো শহর

সান সিরো স্টেডিয়ামে সে রাতে বের্গামো শহরের মানুষ মেতেছিলেন আনন্দে। কিন্তু এর পরের সময়টায় ছোট্ট শহর বের্গামো হয়ে পড়ে এক বিষাদের নগরী। মার্চের ২৫ তারিখ পর্যন্ত বের্গামো শহরে করোনায় আক্রান্ত রোগী ছিলেন ৭ হাজার জন। এবং ততদিনে ১ হাজার জনের অধিক মারা গিয়েছিলেন।

অসহায় মেয়র জর্জিও গোরি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা তখন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ছিলাম। সুতরাং আমরা জানতামই না আসল পরিস্থিতি কী! যদি এই কথা সত্য হয়ে থাকে যে জানুয়ারি মাস থেকেই এই ভাইরাস ইউরোপে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তাহলে খুব ভালো একটি সম্ভাবনা আছে যে প্রায় ৪০ হাজার বের্গোমিশ, যারা সে রাতে সান সিরোর গ্যালারিতে ছিল, সবাই মিলে সেই ভাইরাসের আদান-প্রদান ঘটিয়েছে।’

সান সিরোর গেইম জিরোর পর সম্ভবত সবচেয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন বের্গামোর ডাক্তাররা।

পোপ জন হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান লুকা লরিনি জানান তার দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা। শুধু এক সপ্তাহে তার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আটাশি রোগীকে ভর্তি হতে দেখেছেন। এবং এই সংখ্যাটি কেবলই জরুরি বিভাগের আসা রোগীদের। বাদবাকি হাসপাতালে রোগী ঠিক কতজন তা জানেন না স্বয়ং ডাক্তারও।

‘আমি নিশ্চিত ৪০ হাজার মানুষ একে অন্যকে অন্তত এক সেন্টিমিটার দূরে দাঁড়িয়ে কমপক্ষে চারবার জড়িয়ে ধরেছিল। কারণ সেই ম্যাচে আটালান্টা গোল করেছিল চারটি। আর এটা নিশ্চিতভাবেই ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তৃতির বড় একটি কারণ।’

লুকা লরিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা এখনো একটা যুদ্ধের মাঝামাঝি আছি। আপনাকে নিশ্চিত করছি, পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে এলেই আমরা বের হব, এবং দেখতে চাই সেদিনের ৪০ হাজার মানুষের মাঝে ঠিক কতজন কভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছেন। কিন্তু এখন আমাদের গুরুত্ব অন্য দিকে।’

সেই রাতের পর আটালান্টা ক্লাবের ৪ জন মারা গিয়েছেন। ক্লাব কর্র্তৃপক্ষ নিশ্চিত না করলেও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, তারা প্রত্যেকেই করোনা আক্রান্ত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞ মতামত

ইতালিতে করোনা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথমবার এই ম্যাচকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান ইতালিয়ান ইমিউনোলজিস্ট ফ্রান্সিসকো লে ফসে। তার ভাষ্যমতে, ‘এ ভাইরাসের এমন বিধ্বংসীভাবে ছড়িয়ে পড়ার বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। যাদের মাঝে আটালান্টা-ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচটিও উল্লেখযোগ্য একটি। ক্লাবটির জন্য এটি ছিল সম্মিলিত উল্লাসের দারুণ একটি ফুটবল মৌসুম।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমার ধারণা যাদের টিকিট ছিল, খুব বেশি মানুষ ম্যাচটি মিস করতে চাননি। এমনকি কিছুটা জ্বর বোধ করার পরেও।

এ রকম অবস্থায় এত মানুষ নিয়ে ম্যাচ আয়োজন ছিল স্রেফ পাগলামি। কিন্তু ওই সময়ে বিষয়গুলো অতটা পরিষ্কার ছিল না, যা এখন কল্পনাই করা যায় না।’

ভুলগুলো কী ছিল

সান সিরোতে অনুষ্ঠিত ১৯ ফেব্রুয়ারির চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ভুল বলতে ছিল অনেক কিছুই। প্রথমত করোনাভাইরাসে চীনে ততদিনে ব্যাপক প্রাণহানি হওয়ার পরেও ম্যাচ আয়োজনটাই এক প্রকার ভুল ছিল। যদিও সে-সময় অন্যসব ফুটবল শিডিউল ঠিকঠাক চলছিল, তবে সত্যিকার অর্থেই তা ছিল বেশ ঝুঁকির ব্যাপার। ম্যাচ ঘিরে আটালান্টা সমর্থকদের উত্তেজনার পারদ কতটা উঁচু তা বুঝা যায়, দলের অধিনায়ক আলেয়ান্দ্রো ‘পাপু’ গোমেজের কথা থেকেই। ‘এটা আটালান্টার জন্য এক ঐতিহাসিক ম্যাচ। একেবারেই ভিন্ন কিছু। আমার স্ত্রীর বের্গামো থেকে মিলান পৌঁছাতে তিন ঘণ্টা দরকার ছিল, যেখানে দূরত্ব সাকুল্যে চল্লিশ মিনিট।’

ঠিক একই রকম উন্মাদনা ছিল ভ্যালেন্সিয়া থেকে উড়ে আসা সমর্থকদের ক্ষেত্রেও। স্পেন থেকে আসা সমর্থকরা মিলান শহরে অবাধে ঘুরেছিলেন ম্যাচের একদিন আগে থেকেই। ব্যস্ততা ছিল মিলানের বিভিন্ন ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল, রেস্তোরাঁ থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত সবখানেই। অর্থাৎ কভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সামাজিক দূরত্ব কিংবা সুরক্ষার লেশমাত্র ছিল না গেইম জিরোর রাতে।

সার্বিক পরিস্থিতি বর্ণনায় বের্গামোর নিউমোনিয়া বিশেষজ্ঞ ফ্যাবিয়ানো ডি মার্কোর কথাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। এক শব্দে সে রাতটা ছিল, ‘জৈব বিস্ফোরণ।’ ফুটবল ঘিরে মর্মান্তিক ঘটনা কম নয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বাসবি বেইবস, এমিলিয়ানো সালা, শাপেকোয়েন্স কিংবা জুয়াড়ির হাতে পাবলো এসকোবার, প্রাণহানি কম ছিল না। কিন্তু সত্যিকার অর্থেই যদি এই গেইম জিরোর কারণে ইতালি এবং স্পেনে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ হয়ে থাকে, তবে দ্য বিউটিফুল গেইমের সবচেয়ে বড় দাগ হয়তো হয়ে থাকবে এই আটালান্টা বনাম ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচটি।