ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আলোচিত সাহাব উদ্দিন উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার ৮ দিন পর জানা গেছে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে ৩১ মে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়ে যাবার পর পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করায় তার মৃত্যুর অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়।
এদিকে ফেনীতে নতুনভাবে আরও ১৬ জনের করোনার সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। রবিবার পর্যন্ত ফেনীতে ২৬৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলার ভাদাদিয়া গ্রামের সাহাব উদ্দিন চট্টগ্রামের একটি পেট্রোল পাম্পে কাজ করতেন।
৩০ মে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে তিনি গ্রামের বাড়ি সোনাগাজীতে চলে আসেন। ৩১ মে অবস্থার অবনতি হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে নিজেই করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়ে যান। রাতেই নিজ বাড়ির একটি কক্ষে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানায়, সাহাব উদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা পরীক্ষার নমুনা দেয়ার পর তার স্ত্রী ও সন্তানরা ঘরে তার কক্ষের বাইরে ছিটকিনি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় চলে যান। বিকেলে শ্বাসকষ্ট ও কাশি বেড়ে যায়।
এ সময় তিনি চিৎকার করে খাবার ও পানি চাইলেও কেউ দেননি। ছোট ছেলে এগিয়ে যেতে চাইলে তাকে বোনেরা বাধা দেয়। এভাবে চিৎকার করতে করতে রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয় সাহাব উদ্দিনের।
সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজন জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন তিনি মারা গেছেন। এসময় ছোট ছেলে চিৎকার দিয়ে কান্না শুরু করলে খবরটি জানাজানি হয়। অমানবিকতার মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। সাহাব উদ্দিনের স্ত্রী, তিন ছেলে, তিন মেয়ে ও তিন জামাতা ছিলেন। ঘটনার সময় দুই ছেলে কাজের সূত্রে গ্রামের বাইরে ছিলেন।
এদিকে ফেনীতে প্রাণঘাতি করোনায় আরও ১৬জন আক্রান্ত হয়েছেন।
এছাড়াও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৩ ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছিল বলে পরীক্ষাগার থেকে জানা গেছে।
রবিবার সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে দাগনভূঞায় ৮ জন, সোনাগাজীতে ৭ জন ও পরশুরামের ১ জন রোগী রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ৪ জন মহিলা রয়েছে। যাদের বয়স ১১ থেকে ৭৩ বছর। গতকাল শনিবার ফেনী থেকে আরো ১৪৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ২৬৪ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়ে ৬৮ জন ও এ পর্যন্ত মারা গেছে ৭ জন।
জেলা করোনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সমন্বয়ক ডা. শরফুদ্দিন মাহমুদ জানান, শনিবার পর্যন্ত জেলায় ২ হাজার ৩শ ৪৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করেবাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজ থেকে ১ হাজার ৯৩৫ জনের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।