পার্বতীপুরে বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতা, স্কুলের নির্মাণকাজ বন্ধ ৪ মাস

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বিদ্যুৎ বিভাগের অ-সহযোগিতার কারণে উপজেলার ২১ নম্বর মন্মথপুর চৈতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন দ্বিতল ভবনের কাজ চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।

স্কুল ভবনের প্রথম তলার কাজ শেষ করে দ্বিতীয় তলার পিলার নির্মাণ করতে গিয়ে লক্ষ্য করা যায় ভবনের ওপর দিয়ে বিপদজনক ১১ কেভি বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন রয়েছে। এ অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন থাকায় নির্মাণ কাজ স্থগিত করতে বাধ্য হন।

শিডিউল অনুযায়ী আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নির্মাণাধীন স্কুলের দ্বিতল ভবনের কাজ শেষ হওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ না হলে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া করোনাভাইরাস বিস্তারের কারণে বন্ধ থাকা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু হলে বিদ্যালয় ভবনের অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘ্নিত হওয়ারও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান স্কুলের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সরিয়ে নেয়ার জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-২ এর পার্বতীপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম এর কাছে আবেদন করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও পল্লীবিদ্যুৎ অফিস সঞ্চালন লাইন সরিয়ে নেয়ার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। উল্টো ডিজিএম বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সরিয়ে নেয়ার খরচ বাবদ স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ৪৩ হাজার ৭৯১ টাকা জমা দানের জন্য ‘ডিমান্ড নোট’ প্রদান করেন। 

প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান জানান, কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এতো বিপুল পরিমাণ নিজস্ব তহবিল নেই, যা দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

এ ব্যাপারে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি দিনাজপুর-২এর পার্বতীপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আব্দুল আলীম প্রধান শিক্ষকের আবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সরকারি অর্থায়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন পুনর্বাসনের প্রকল্প চলমান না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিজ ব্যয়ে সঞ্চালন লাইন সরিয়ে নেয়ার জন্য ‘ডিমান্ড নোট’ প্রদান করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে কাজ করতে চাইলে নতুন প্রকল্প না আসা পর্যন্ত ওনাদের অপেক্ষা করতে হবে। 

জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে স্থানীয় বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিদের উদ্যোগে ২১নম্বর মন্মথপুর চৈতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রায় চার মাস আগে বিগত ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইডিপি-৪) আওতায় ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার ৯০০ টাকা ব্যয়ে এ বিদ্যালয়ের নতুন দ্বিতল স্কুল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।