গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস শনাক্তের অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য আরও কিট চেয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) গঠিত কমিটি। গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। এদিকে গণস্বাস্থ্যের কিট তৈরি প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার জানিয়েছেন, কিট না থাকায় এটি তৈরি করতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
বিএসএমএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহীনা তাবাসসুমের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের কমিটি করোনাভাইরাস শনাক্তে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তৈরি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার কাজ করছেন।
কমিটির সদস্যরা বর্তমানে অ্যান্টিবডি কিট পরীক্ষার ডেটা প্রসেসিংয়ের কাজ করছেন বলে এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য।
গতকাল সন্ধ্যায় বিএসএমএমইউ উপাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান অনুসন্ধানকারীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে কাজটি শেষ করতে আরও কিছু কিটের প্রয়োজন। গণস্বাস্থ্য বাকি কিট সরবরাহ করলে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়া যেতে পারে।’
এ প্রসঙ্গে ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের স্টকে এই মুহূর্তে কিট (অ্যান্টিবডি) নেই। এটি তৈরি করতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, গত ২ জুন বিএসএমএমইউকে গণস্বাস্থ্যের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তাতে বিএসএমএমইউকে দ্রুত অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফলাফল জাতীয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি সপ্তাহে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। নতুন করে কিট চাওয়ায় তা বিলম্বিত হবে।
২/১ দিনের মধ্যে বিএসএমএমইউকে অ্যান্টিজেন কিট দেওয়া হবে : গত ২ জুন বিএসএমএমইউকে সরবরাহ করা অ্যান্টিজেন কিট ফেরত চেয়ে চিঠি দেয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। চিঠিতে বলা হয়, যথাযথ প্রক্রিয়ায় রোগীদের লালা সংগ্রহ না করায় অ্যান্টিজেন কিটে পরীক্ষার ফলে ত্রুটি পাওয়া যাচ্ছে। সে সময় মহিবুল্লাহ খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, ‘আমাদের দুটি কিট। একটি হচ্ছে অ্যান্টিবডি ও অপরটি অ্যান্টিজেন। অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা বিএসএমএমইউকে একটি চিঠি দিয়ে বলেছি যে এই কিটের ব্যাপারে প্রতিবেদন সম্পন্ন করে যাতে তারা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে দিয়ে দেয়। আর অ্যান্টিজেন কিটের ব্যাপারে বলেছি, তারা যে নমুনা সংগ্রহ করছে, সেই নমুনায় থুথু ও কফ থাকায় পরীক্ষায় ত্রুটি হচ্ছে। তাই আপাতত এটার পরীক্ষা স্থগিত রাখতে।’
গতকাল সন্ধ্যায় মুহিব উল্লাহ খোন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামী ২/১ দিনের মধ্যে পরীক্ষার পদ্ধতি ঠিক করে তার একটি নমুনাসহ বিএসএমএমইউকে অ্যান্টিজেন কিট দেওয়া হবে। এবার যে কিট সরবরাহ করা হবে তা দিয়ে করোনা পরীক্ষা করতে চিকিৎসকদের কিছু করতে হবে না। রোগী নিজেই টেস্টের স্যাম্পল দেবে এবং চিকিৎসকরা তা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত করতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘লালা আমাদের জিহ্বা থেকে নিঃসরিত হয়। এটি আমাদের মুখের সবচেয়ে তরল পদার্থ। জিহ্বার আশপাশ থেকেই এটি আসে। কিন্তু (অ্যান্টিজেন) কিটের জন্য সংগ্রহ করা নমুনায় দেখা গেছে, মানুষ (যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে) কাশি দিয়ে জোর করে লালা বের করে দিচ্ছে। এর ফলে গলার ভেতরের দিক থেকে কফ চলে আসছে, যা লালার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। সেই কারণেই অ্যান্টিজেন কিটে ফল এরর দেখাচ্ছে।’
মুহিব উল্লাহ আরও বলেন, ‘আমরা যখন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলাম, তখন দুইশ’র বেশি নমুনা (লালা) সংগ্রহ করেছি। আসলে লালা সংগ্রহ প্রচলিত নয়। মানুষ সচরাচর পরীক্ষার জন্য এটি দেয় না। তাই এটি সংগ্রহে ঝামেলা হচ্ছে। তাই আমরা বিএসএমএমইউকে বলেছি, এটা সংগ্রহের একটা পদ্ধতি আমরা বের করে দিচ্ছি। যাতে সঠিক পদ্ধতিতে লালা সংগ্রহ করা যায়। এরপর বিএসএমএমইউ আবার পরীক্ষা করবে।’