পরীক্ষা ৪ লাখ ছাড়াল, শনাক্তের হার বেড়ে দ্বিগুণ

দেশে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি অব্যাহতভাবে চলছে। গত রবিবার একদিনে এ যাবৎ সর্বোচ্চ ৪২ জনের মৃত্যুর পর টানা দ্বিতীয়দিনের মতো গতকাল সোমবারও ২৪ ঘণ্টায় সমপরিমাণ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে গত দুই দিনেই দেশে করোনায় ৮৪ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া গত এক সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে আড়াই শতাধিক অর্থাৎ ২৫৮ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল দেশে করোনা শনাক্তের ৯৩তম দিনে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪২ মৃত্যুর সঙ্গে নতুন করে আরও ২৭ শতাধিক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৩ হাজার নমুনা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গতকাল দেশে সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রথম এক লাখ পরীক্ষায় যে পরিমাণ রোগী শনাক্ত হয়েছে, চতুর্থ এক লাখ পরীক্ষায় তার প্রায় দ্বিগুণ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

দেশে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত করা হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম দিকে দৈনিক খুবই অল্পসংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হতো। তাই প্রথম এক লাখ নমুনা পরীক্ষা হতে লেগেছে গত ৭ মে পর্যন্ত ৬১ দিন। এরপর ক্রমান্বয়ে নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো হয়। ফলে পরবর্তী মাত্র ১৩ দিন পর গত ২০ মে পরীক্ষা ২ লাখ ছাড়ায়, তার ১১ দিন পর গত ৩১ মে পরীক্ষা ৩ লাখ ছাড়ায় এবং তারও মাত্র ৮ দিনের মাথায় গতকাল নমুনা পরীক্ষা ৪ লাখ ছাড়াল। শেষদিকে পরীক্ষা বাড়ার সঙ্গে শনাক্ত ও মৃত্যু দুটোই বেড়েছে। প্রথম এক লাখ পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৪২৫ জন ও মৃত্যু হয়েছে ১৮৬ জনের, দ্বিতীয় এক লাখে শনাক্ত ১৪ হাজার ৩১৩ জন ও মৃত্যু ২০০ জন, তৃতীয় এক লাখে শনাক্ত ২০ হাজার ৪১৫ জন ও মৃত্যু ২৬৪ জন এবং শেষ এক লাখ পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ২১ হাজার ৩৫১ জন ও মৃত্যু ২৮০ জন। এছাড়া প্রথম এক লাখ পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ছিল তুলনামূলক কম প্রায় ১২ শতাংশ, দ্বিতীয় এক লাখে কিছুটা বেড়ে প্রায় ১৪ শতাংশ, তৃতীয় এক লাখে এক লাফে বেড়ে প্রায় ২০ শতাংশ এবং চতুর্থ বা শেষ এক লাখ পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ছিল ২১ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ প্রথম এক লাখের তুলনায় চতুর্থ এক লাখ পরীক্ষায় প্রায় দ্বিগুণ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ৯৬১টি। পরীক্ষা হয়েছে ১২ হাজার ৯৪৪টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৭৩৫ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল গতদিনের চেয়ে বেশি ২১ দশমিক ১৩ শতাংশ। একই সময়ের মধ্যে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৪২ জন ও সুস্থ হয়েছেন ৬৫৭ জন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৪ লাখ ১০ হাজার ৯৩১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৮ হাজার ৫০৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সর্বমোট মারা গেছেন ৯৩০ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ হাজার ৫৬০ জন। এ পর্যন্ত শনাক্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও সুস্থতার হার ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ। এছাড়া শনাক্তদের মধ্যে পুরুষ ৭১ শতাংশ ও মহিলা ২৯ শতাংশ এবং মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৭৭ শতাংশ ও মহিলা ২৩ শতাংশ।

সর্বশেষ মৃত ৪২ জনের বিষয়ে বলা হয়, তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ জন ও মহিলা ৯ জন। তাদের বয়স ১১-২০ বছরের ১ জন, ২১-৩০ বছরের ৩ জন, ৩১-৪০ বছরের ১ জন, ৪১-৫০ বছরের ৭ জন, ৫১-৬০ বছরের ১০ জন, ৬১-৭০ বছরের ১২ জন, ৭১-৮০ বছরের ৪ জন, ৮১-৯০ বছরের ২ জন ও ৯১-১০০ বছরের ২ জন।

বুলেটিনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ২৯৭ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ৭ হাজার ৫৫২ জন। একই সময়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ২ হাজার ২২৮ জন। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৫৬ হাজার ৭২ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ৭১ হাজার ১৭টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ৯৪৫ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।