এক শ টাকা সহায়তা পেতে স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে শত শত নারীর জমায়েত

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা সদরে ১০০ টাকার সহায়তা পেতে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে শত শত নারীর জমায়েত ঘটেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সদরে পোস্ট অফিসের সামনে সামাজিক দূরত্ব না মেনে এই নারীদের জমায়েত হয়।

জানা যায়, জাতীয় মহিলা সংস্থার অধীনে ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১০০ টাকা করে দুইশ গরিব নারীকে সহায়তা দেয়া হবে বলে খবর পেয়ে শত শত গরিব অসহায় নারীর জমায়েত তৈরি হয়।

তারা সেখানে সামাজিক দূরত্ব না মেনে ধাক্কাধাক্কি-কাড়াকাড়ি শুরু করেন। এক পর্যায়ে সহায়তা বিতরণকারী ‘তথ্য আপা’ সংশ্লিষ্টরা পোস্ট অফিসে ঢুকে পড়েন।

নেত্রকোনা জেলার হাওর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ বলেন, ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের তথ্য আপারা মাত্র ১০০ টাকা দেয়ার কথা বলে শত শত মানুষের জমায়েত করে কি ভয়ংকর ক্ষতি করছেন, হয়তো নিজেরাও তা বুঝতে পারছেন না।

এই মহামারিতে এসব বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ভাবে ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন। সবচেয়ে ভালো হতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রামে গ্রামে গিয়ে তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিরাপদ কোন জায়গায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিতরণ করা।

এ বিষয়ে তথ্য আপার খালিয়াজুরী উপজেলার প্রধান খাফিয়া সুলতানা দেশ রূপান্তরকে জানান, আমরা প্রতি মাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে ১০০ করে টাকা দুই শত দরিদ্র নারীদের মাঝে দুই কিস্তিতে বিতরণ করে থাকি। এবার এক সাথে বিতরণের কারণেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, চায়না আক্তার নামে এক মহিলাকে স্বল্প সংখ্যক ২০-২৫ জনকে আনার জন্য বলেছিলাম। পরে আশেপাশের মহিলারা শুনে জড়ো হয়ে গেছে। এ রকম পরিস্থিতির উদ্ভব হবে বুঝতে পরিনি। ভবিষ্যতে এমন ঘটবে না বলে তিনি জানান।

খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মিলি দে এ ব্যাপারে বলেন, যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে তাতে এলাকায় করোনা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে এত লোক একসাথে জমায়েতের বিষয়টি অবগত নন বলে জানান খালিয়াজুরীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এএইচএম আরিফুল ইসলাম।