ভয়ংকর হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়া

বিশ্বের যেকোনো স্থানের তুলনায় লাতিন আমেরিকায় সংক্রমণ বাড়ছে। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে হু হু করে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েই চলেছে। ব্রাজিল, পেরু, চিলিসহ দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে করোনা। সংক্রমণ বাড়ছে ভারত-পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ায়।

এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে এক দিনে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৫৪। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৭ হাজার ৪১২। মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৭ হাজার ১৩৪ জনের।

ব্রাজিলের পরেই রয়েছে পেরু। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৮১ জন। ফলে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯৬। পেরুতে নতুন করে মারা গেছে ১০৬ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৫৭১ জনের। 

চিলিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৬ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ২ হাজার ২৬৪ জন।

মেক্সিকোতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৯৯ জন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ১০২ জন। অপরদিকে নতুন করে মারা গেছে ৩৫৪ জন। ফলে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫১৪ হাজার ৫৩ জনের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রস আধানম জানিয়েছেন, গতকাল যত মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তার ৭৫ শতাংশ সংক্রমণই ১০টি দেশে। আর এই দেশগুলো মূলত দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার।

মহামারী করোনা যখন চীন, ইউরোপ হয়ে আমেরিকা পর্যন্ত মারাত্মকভাবে বিস্তার ছড়াচ্ছিল তখন ভারতে সংক্রমণ অতটা ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই দেশটিতে ভাইরাসটির সংক্রমণ এতটাই বাড়তে শুরু করেছে যে সাবধান না হলে হয়তো আগামী দিনগুলোতে তা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।

প্রতিদিনই দেশটিতে নতুন করে প্রায় ১০ হাজার মানুষ করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সবশেষ হিসাব অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে আরও ৯ হাজার ৯৮৭ জন শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হলো ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৮ জন।

করোনার প্রকোপ অনেক পরে শুরু হলেও ভারত ক্রমাগতই আক্রান্তে শীর্ষে থাকা দেশগুলোকে টপকে যাচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান এখন পঞ্চম। অথচ কয়েক দিন আগেই ছিল ২০ নম্বরে।

ভারতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ হতে সময় নিয়েছিল ১১০ দিন। পরবর্তী ১ লাখ সংক্রমিত হয় মাত্র ১৫ দিনে। কিন্তু রোগ ছড়ানোর এখন যা গতি, তাতে মনে হচ্ছে এই সংখ্যাটা ২ থেকে ৩ লাখে পৌঁছাতে মোটে সপ্তাহখানেক লাগতে পারে। দ্রুতগামী সংক্রমণ সরকারের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।

পাকিস্তানেও এখন প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। পাকিস্তানের রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১ লাখ। বাংলাদেশে আড়াই থেকে তিন হাজার রোগী শনাক্ত হচ্ছে প্রতিদিন। মোট রোগী ছাড়িয়েছে ৭০ হাজার। 

এদিকে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৪ লাখ ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ সময় গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারীতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭২ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭৬। এর মধ্যে ৪ লাখ ৯ হাজার ৬১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছে ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭২ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।