উপসর্গহীন রোগীদের থেকে করোনা সংক্রমণ নিয়ে একেকবার একেক তথ্য দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত সোমবার জেনেভায় সংস্থার ইমার্জিং ডিজিজ বিভাগের প্রধান মারিয়া ভন কেরকোভ বলেন, তারা দেখেছেন উপসর্গহীন করোনা রোগীর থেকে অন্য কেউ সংক্রমিত হওয়ার হার খুবই কম। তবে গতকাল মঙ্গলবারের এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ভন কেরকোভ নিজেই বলেন, বিষয়টি এখনো তাদের অজানা। বরং এখন পর্যন্ত তারা যা জানেন তা হলো করোনা উপসর্গহীন রোগীরাও ছড়াতে পারে। তার এই ভুলের জন্য তিনি ক্ষমাও চান।
গতকাল তিনি বলেন, আমাদের কাছে যে পরিসংখ্যান আছে তাতে দেখা যাচ্ছে, যেসব রোগীর শরীরে করোনার উপসর্গ আছে তাদের হাঁচি কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ হতে পারে। কিন্তু যাদের করোনার কোনো লক্ষণ নেই তারাও ছড়ায়। উপসর্গহীনরাও একটা সাব সেট।
তিনি বলেন, আমরা একটা বিষয় দেখেছি। কিন্তু ঠিক কত শতাংশ লোক আসলেই উপসর্গহীন সেটা এখনো অজানা আছে আমাদের। তারা কীভাবে সংক্রমিত হয়েছে সেই কেস স্টাডিও জানা দরকার। তবে তারই এক সহকর্মী মাইক রায়ান বলেছেন, ভন কেরকোভ বিষয়টি ওইভাবে উপস্থান করতে চাননি হয়তো। কারণ উপসর্গহীনরা যে করোনা ছড়ায় তা অনেক গবেষণায় দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে সিডিসিও বলছে উপসর্গহীনরা করোনা ছড়ায়।
তার মতে, মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই করোনা লড়াইয়ের প্রধান ফর্মুলা।
এদিকে লন্ডনের স্কুল অব হাইজিনের অধ্যাপক লিয়াম স্মিথ বলেন, তার কাছে যে তথ্য আছে সে হিসেবে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ রোগী উপসর্গহীনদের মাধ্যমেই আক্রান্ত।
সোমবার জেনেভায় সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস সতর্ক করেছেন, মহামারীর ছয় মাস পার হলেও এখনই কড়াকড়ি শিথিলের সময় আসেনি। ইউরোপের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, তবে বিশ্বের পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে।
তেদ্রোস বলেন, “গত ১০ দিনের ৯ দিনই দৈনিক এক লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। যেসব দেশের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে সেখানে এখন সবচেয়ে বড় হুমকি ‘আত্মতুষ্টি’।” তার মতে, বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ এখনো করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।