নগরীর বাকলিয়ায় বাড়ির মালিককে ফাঁসাতে গিয়ে প্রতিবেশীর শিশুকে পানির ট্যাংকে ফেলে হত্যা করেছে এক নারী।
এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার দায়ে ওই ভবনের ভাড়াটিয়া নাজমা বেগমকে (৪০) গতকাল মঙ্গলবার নগরীর পাথরঘাটার মনোহরখালী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বাকলিয়ার ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকায় নুরুল আলম মিয়ার বিল্ডিংয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন।
পুলিশ জানায়, গত ৭ জুন বাকলিয়ার নুরুল আলম মিয়ার ভবনের ভাড়াটিয়া আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে আরাফ (২) বাসার নিচে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর রাতেই ওই ভবনের ছাদে পানির ট্যাংক থেকে আরাফের লাশ উদ্ধার করা হয়।
বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার নাজমাকে গ্রেপ্তার করলে তিনি জানান, গত দুই বছর ধরে তার স্বামী, তিন মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে নুরুল আলমের বিল্ডিংয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। তার স্বামীর অসুস্থতার চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বাড়ির মালিকের ভবনে তার এক ছেলে দারোয়ানের চাকরিও করে কিন্তু বাসা ভাড়া দিতে না পারায় মালিক বেতনও দিচ্ছিলেন না ছেলের।
তিনি আরও জানান, বাড়ির মালিক নুরুল আলমের সঙ্গে পাশের ভবনের মো. ফরিদের বিরোধ ছিল। এই জেরে ফরিদ নাজমাকে নুরুল আলমকে ফাঁসিয়ে দিতে প্ররোচনা দেয়। এজন্য তাকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে এবং ঋণও পরিশোধ করবে বলে জানায়। এর জেরে গত রবিবার ভবনের নিচে খেলতে থাকা প্রতিবেশীর শিশুপুত্র আরাফকে কোলে নিয়ে ছাদে উঠে যান এবং পানির ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেন।
ওসি নেজাম বলেন, গ্রেপ্তার নাজমা জানিয়েছেন, টাকার লোভে বাড়ির মালিককে ফাঁসাতেই এই কাজ করেছেন।