ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকতকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় এ সুপারিশ সংবলিত একটি পত্র পেশ করেছেন সংগঠনের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার। পাশাপাশি গতকাল তাকে নেওয়া হয়েছে রিমান্ডে।
এ সময় সাজ্জাদ হোসেনকে অব্যাহতি ও বহিষ্কার সংবলিত ওই পত্র জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশসহ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।
সুপারিশ পত্রে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ফরিদপুর শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি, তার কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, মানি লন্ডারিং, সর্বসাধারণের জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলাসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ফরিদপুর জেলা শাখার সংগ্রামী সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ফরিদপুর শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক পদসহ দলীয় সব পদ থেকে সাজ্জাদ হোসেনকে অব্যাহতি এবং বহিষ্কারের সুপারিশ করে জেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহা জানান, সাজ্জাদ হোসেনকে বহিষ্কারের সুপারিশ সংবলিত চিঠি গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তিনি হাতে পাননি। তবে পেলেই তিনি সুপারিশ কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেবেন।
এদিকে হামলার ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন, তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান ও রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। এসব মামলার বাদী হয়েছেন কোতোয়ালি থানার তিন এসআই। এছাড়া সাজ্জাদ হোসেন, ইমতিয়াজ হাসান, রেজাউল করিমের তিন ও ফরিদপুরের পৌর কাউন্সিলর মাহফুজুর রহমানের মঙ্গলবার থেকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড শুরু হয়েছে।
গত ১৬ মে রাতে সুবল সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটলে ১৮ মে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তিনি। এরপর ৭ জুন রাতে গ্রেপ্তার হন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, তার ভাই ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ হাসান, সাংবাদিক রেজাউল করিম, ফরিদপুর পৌর কাউন্সিলর মাহফুজুর রহমান, বর্ধিত ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নারায়ণ চক্রবর্তী, ইয়াসমিন সুলতানা, এনামুল ইসলাম, অমিয় সরকার ও জাহিদ খান।