করোনাভাইররাসের প্রভাবে তৈরি পোশাক রপ্তানি রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। সহসাই এই রপ্তানি আয় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। এর মধ্যে আসন্ন বাজেটে তৈরি পোশাক খাতে উৎসে কর দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে উৎসে কর দিতে হবে দশমিক ২৫ শতাংশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাক তৈরি ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট রহিম ফিরোজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর থেকে দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় ব্যাপকভাবে কমে গেছে। আমরা নতুন করে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোটি মানুষ জড়িত। সরাসরি সম্পৃক্ত ৪০ লাখ শ্রমিক। আমরা তাদের কথা চিন্তা করে, তৈরি পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাব ছিল বিদ্যমান দশমিক ২৫ শতাংশ উৎসে কর বহাল রাখা। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিন্তা ভিন্ন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১১ তারিখের পর বলা যাবে কী করব। নিশ্চয় বিজিএমইএ নেতারা দেনদরবার করবেন। কারণ করোনা পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া আমাদের পক্ষে কঠিন।
প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে শুরুতে তৈরি পোশাক খাতের উৎসে কর ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ কোনো গার্মেন্টস মালিক ১০০ টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি করলে তার বিপরীতে এক টাকা উৎসে কর দেওয়ার কথা। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। গত বছরের ২১ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে এনবিআর বলছে, তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর দিতে হবে দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ, কোনো গার্মেন্টস মালিক এখন থেকে ১০০ টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি করলে তার বিপরীতে তাকে ২৫ পয়সা উৎসে কর হিসেবে দিতে হবে।
রপ্তানি উন্নয়ন বুরে্যার (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের মে পর্যন্ত ১১ মাসে তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা থেকে আয় কম হয়েছে ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। মোট দুই হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল তিন হাজার ১৭৩ কোটি ডলার। টেরিটাওয়েলসহ পোশাক খাতের সমজাতীয় পণ্য মিলে মোট রপ্তানিতে পোশাক খাতের অবদান ৮৬ শতাংশ। এ খাতের উদ্যোক্তাদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মাসে মে মাসে ওভেন ও নিট খাতে পোশাক রপ্তানি কমেছে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ ও ১৯ দশমিক ২২ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে লক্ষ্যমাত্রাও।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে ১ হাজার ১৫০ কারখানার ৩১৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে গত তিন মাস ধরে পোশাক রপ্তানি কমছে। এই সময়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত সারা বিশ^। এ জন্য সামনের দিনগুলোতে পোশাক রপ্তানি আয় নিম্নমুখী থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতে উৎসে কর ছিল দশমিক ৩০ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেটে তা দ্বিগুণ করে দশমিক ৬০ শতাংশ করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে উৎসে কর এক দশমিক ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দশমিক ৭০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। একই হারে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উৎসে কর দেন উদ্যোক্তারা। শেষ পর্যন্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এটি দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।