করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঘোষিত ছুটির ফলে ৯৫ শতাংশ মানুষ উপার্জনের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৫১ শতাংশ খানায় কোনো আয়ই নেই। দৈনিক মজুরিতে নির্ভরশীল ও স্বল্পআয়ের মানুষদের ৬২ শতাংশ চাকরি হারিয়েছেন। আর্থিক কর্মকা-ের দিক থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন ২৮ শতাংশ ব্যক্তি। সাধারণ ছুটি শুরুর আগে খানাভিত্তিক গড় মাসিক আয় ছিল ২৪ হাজার ৫৬৫ টাকা। মে মাসে তা ৭৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯৬ টাকা। শহর এলাকায় আয় কমার হার ৭৯ শতাংশ। পল্লী অঞ্চলের এ হার ৭৫ শতাংশ। পুরুষ-প্রধান খানার চেয়ে নারী-প্রধান খানাগুলো আর্থিক দিক থেকে কিছুটা বেশি নাজুক। নারী-প্রধান খানার আয় কমেছে ৮০ শতাংশ, অন্যদিকে পুরুষ-প্রধান খানার আয় কমেছে ৭৫ শতাংশ। নারী-প্রধান খানাগুলোর মধ্যে ৫৭ শতাংশ জানিয়েছে বর্তমানে তাদের কোনো উপার্জনই নেই। পুরুষ-প্রধান খানাগুলোর ৪৯ শতাংশ এ কথা জানিয়েছে।
করোনা সংক্রমণ মোকাবিলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের মানুষের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেতে ব্র্যাক সম্প্রতি একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। এই জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল এক ডিজিটাল সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ক বিভাগের সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ, দেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী, ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক শামেরান আবেদ প্রমুখ।
গত ৯-১৩ মে ৬৪ জেলায় পরিচালিত এই জরিপে বিভিন্ন আর্থসামাজিক অবস্থার ২ হাজার ৩১৭ জন অংশ নিয়েছেন। এর ৬৮ শতাংশ গ্রামাঞ্চল ও ৩২ শতাংশ নগর এলাকার বাসিন্দা। অংশগ্রহণকারীদের ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ ও ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর দৈনিক মজুরিতে নির্ভরশীল মানুষ ধীরে ধীরে জীবিকা নির্বাহের পথে ফিরে আসছেন। কিন্তু এসব পরিবারের অনেকের অন্তত আগামী তিন মাসের জন্য ধারাবাহিক খাদ্য বা আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।