‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ লেখা ও খাদ্য অধিদপ্তরের সিল সম্বলিত ৮০ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে। তবে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করা হয়নি।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিক ৮০ বস্তা চাল জব্দসহ এর সঙ্গে জড়িত এক নারীকে আটকের নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে ওই নারীকে আটক করা হয়নি। উল্টো চাল পাচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে আটক ও চাল জব্দ না করেই স্থানীয় ইউপি মেম্বরের জিম্মায় দেয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে মোংলার উত্তর চাঁদপাই গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাল পাচার ও মজুদের খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে মোংলা শহরতলীর উত্তর চাঁদপাই এলাকায় অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন।
ঘটনাস্থল থেকে ৮০ বস্তা চাল জব্দ এবং ঘটনাস্থলে এক নারীকে পাওয়া গেলে তাকে আটকের নির্দেশ দেন ইউএনও মো. রাহাত মান্নান।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ চাল দুর্গন্ধযুক্ত, তবে এ চাল কোনভাবেই মাছ কিংবা পশু খাবার হিসেবে ব্যবহার ও বেচাকেনা যাবে না। যেহেতু দুর্গন্ধযুক্ত সেহেতু এগুলো ডাম্পিং করা কথা। তারপরও এ চাল কিভাবে এখানে এসেছে কে বা কারা এনেছে তা পুলিশ তদন্ত করে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেবে।
তবে ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. আহাদ বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ না করায় থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। আর চাল ওই মহিলার জিম্মায় রয়েছে।
এদিকে চাল পাচারের ঘটনায় ইউএনও মো. রাহাত মান্নান মোংলা সরকারি খাদ্য গুদামের ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলামকে বাদী হয়ে থানায় মামলা করার কথা বললেও মামলা তিনি মামলা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই করতে পারবো না।
চাল পাচারের সাথে জড়িত উজ্জল ফকির (৩২) এবং তার মা পেয়ারা বেগম (৫০) বলেন, পৌর শহরের ফেরিঘাট সংলগ্ন জনৈক ফারুক ডিলারের বার্জ (নৌযান) হতে তারা এ চাল কিনে এনেছেন। চাল কিনে তারা উত্তর চাঁদপাই গ্রামের বাবুল শেখের নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে রাখেন এবং চাঁদপাই মাজারের সামনের একটি দোকানে এ চাল বিক্রিও করেন।