দিনাজপুরে সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় বাবাকে এক মাস ধরে ঘরে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করেছে নিজের দুই ছেলে। আর এতে সহায়তা করেছে নির্যাতনের শিকার মোখলেছুর রহমানের (৫০) ভাই ও ভাতিজা। এ ঘটনা ঘটেছে সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের রানীপুর গ্রামে। এলাকাবাসী মোখলেছুর রহমানকে গতকাল বুধবার রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশের পরামর্শে তাকে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গতকাল বিকেলে কোতোয়ালি থানার অপেক্ষমাণ ঘরে গিয়ে দেখা যায়, নির্যাতিত মোখলেছুরের ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। ডান হাতের আঙুলের নখ তুলে ফেলায় আঙুল ফুলে আছে। দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি রেখে নির্যাতন করায় শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফুলে যাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে।
নির্যাতিত মোখলেছুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার দুই সন্তান নাহিদ হাসান ও জাহিদ হাসান তাদের দুই চাচার সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমার প্রায় ৮০ লাখ টাকার সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমার স্থানীয় রানীপুর বাজারে একটি মার্কেট ও প্রায় আড়াই একর জমি আছে। কিন্তু আমার ছেলে নাহিদ ও জাহিদ এবং আমার বড় ভাই মমিনুল ইসলাম, মেজ ভাই মাহবুব ও মাহবুবের ছেলে মাহফুজুর রহমান এক হয়ে আমার বাজারের মার্কেট ও আড়াই একর জমি তাদের নামে লিখে দিতে বহুদিন ধরেই চাপ দিয়ে আসছিল।’
মার্কেট ও জমি সন্তানদের নামে লিখে না দেওয়ায় তারা এক মাস ঘরে বন্দি করে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে জানিয়ে মোখলেছুর আরও বলেন, ‘আমার আঙুলের নখ তুলে নিয়েছে। আমার পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিয়ে আমার পা কেটে ফেলেছে। আমি আমার সম্পত্তি তাদের নামে লিখে না দেওয়ার কারণে আমাকে তারা গলায় দড়ি দিয়েও মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। আমাকে প্রায়ই বিষ এনে খাইয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে আমার দুই সন্তান।’
নির্যাতিত মোখলেছুর আরও বলেন, ‘আমার দুই ছেলে তার বড় চাচা মমিনুল ইসলাম ও মেজ চাচা মাহবুব এবং সেনাবাহিনীতে চাকরি করে আমার ভাতিজা মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই কাজগুলো করছে। আমার ভাই এবং ভাতিজারাও আমাকে প্রচ-ভাবে নির্যাতন করে আসছে। আমার পক্ষে পাড়া-প্রতিবেশীরা কেউ কথা বলতে এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারধর করার চেষ্টা করে। ভাগ্যক্রমে আজকে আমার পাড়ার এক ভাতিজাসহ কয়েকজন মিলে আমাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আমি প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি জানাচ্ছি, আমাকে নির্যাতনের বিচার চাই। আমার সন্তান ও ভাই-ভাতিজার বিচার দাবি করছি।’
মোখলেছুরের প্রতিবেশী আবেদ আলী মানিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দুই ছেলে ও ভাই-ভাতিজারা বাজারের মার্কেট ও সম্পত্তির লোভে মোখলেছুর চাচাকে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করে আসছে। আজকেও নির্যাতন করার সময় আমরা বেশ কয়েকজন এগিয়ে যাই। আমরা এগিয়ে গেলে আমাদের ওপর তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ইট দিয়ে ঢিল মারতে শুরু করে। আমাদের মধ্যেও কয়েকজনকে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। কিন্তু আজকে মোখলেছুর চাচাকে আমরা সবাই মিলে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি।’
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বজলুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য অবশ্যই দোষীদের চরম শাস্তির আওতায় আনা হবে। একজন জন্মদাতা পিতাকে যারা অমানুষিক নির্যাতন করতে পারে তারা আর যাই হোক প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’