বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় যুবলীগ নেতা আনছুর আলমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে জেলার মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের সাইটমারা এলাকা থেকে চকরিয়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আনছুর আলম চকরিয়ার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। তিনি একই ইউনিয়নের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ার প্রয়াত মনির উল্লাহর ছেলে।

চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ার প্রয়াত আলী মিয়ার ছেলে বৃদ্ধ নুরুল আলমকে (৭২) তুচ্ছ ঘটনার জেরে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের মূলহোতা আনছুর আলম। ওই নির্যাতনের দৃশ্যের ছবি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী আলোড়ন তৈরি হয়। পরে আনছুর আলমকে প্রধান আসামি করে চকরিয়া থানায় অভিযোগ দিলে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। সাইটমারা এলাকার একটি বাড়িতে তিনি আত্মগোপনে থাকার খবরে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আনছুর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাকে ধাওয়া করে আটক করে পুলিশ।

ওসি আরও বলেন, এলাকায় ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও জবরদখলসহ নানা অভিযোগে আনছুরের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। এর আগে গত ৩ জুন চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বৃদ্ধকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোহাম্মদ বেলাল, কায়ছার উদ্দিন ও মোহাম্মদ ফারুক নামে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৪ মে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে ঈদের কেনাকাটা শেষে ইজিবাইকে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ি থেকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে বৃদ্ধ নুরুল আলমকে বিবস্ত্র করে মারধর করেন ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আনছুর আলম। মারধরের সময় বৃদ্ধের পরনের লুঙ্গি ও গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি গালিগালাজ করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন যুবক মারধরের দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে। ঘটনাটি আশপাশে থাকা বেশ কিছু যুবক প্রত্যক্ষ করলেও কেউ বৃদ্ধ নুরুল আলমকে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। তবে ওই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ গত ২ জুন ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় হয়। এর আগে গত ৩১ মে নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধের ছেলে আশরাফ হোসাইন বাদী হয়ে যুবলীগ নেতা আনছুর আলমসহ ৮ জনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় এজাহার জমা দেন। যদিও পুলিশ তদন্তের কথা বলে তাৎক্ষণিক মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি।