নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মানবপাচারকারী চক্রের এক হোতাকে গ্রেপ্তারের পর জানা গেছে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। তাহের প্রধানের (৪৫) নেতৃত্বে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশে পাঠানোর নামে করে আসছে প্রতারণা। মোটা অংকের টাকা নিয়ে কানাডা পাঠানোর কথা বলে পাঠাচ্ছে ভারতে। সেখানে চক্রটির প্রতিনিধিরা তাদের জিম্মি করে আদায় করছে বড় অংকের মুক্তিপণের টাকা।
গত বুধবার ফতুল্লার বক্তাবলী থেকে র্যাব আটক করে তাহের প্রধানকে। তিনি ওই এলাকার ফকির চাঁনের ছেলে। এদিকে একই দিন মাদারীপুর থেকে লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে আরও পাঁচজনকে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, র্যাবের নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক ও সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আবু তাহের প্রধানসহ আরও তিনজন সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী দলের সদস্য। মানবপাচারকারী চক্রটি নোয়াখালীর চাটখিলের ভরতপুরের বাসিন্দা সাইদুল হকের ছেলে মো. মিজানুর রহমানের ছোট ভাই মেহেদী হাসান (২৪), তার চাচাত ভাই নাসিম চৌধুরীসহ (৪০) আরও অনেককে কানাডায় পাঠানোর নামে ভারতে পাচার করে। পরে তাদের জিম্মি ও নির্যাতন করে দুই ভাইয়ের সর্বমোট ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ঢাকার তেজগাঁও থানায় একটি মানবপাচার মামলা করেন। ওই মামলার পর র্যাব-১১ এর একটি দল অভিযান চালায়।
মাদারীপুর সংবাদদাতা জানিয়েছেন, লিবিয়ায় মানব পাচার চক্রের ১ সদস্য ইমাম হোসেন শেখকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। বুধবার রাতে মাদারীপুর সদর উপজেলার হবিগঞ্জ গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমাম হোসেন শেখ রাজৈর উপজেলার পাঠানকান্দি এলাকার মৃত সামাদ শেখের ছেলে।
আসামি ইমাম হোসেন শেখের ভাই আমির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন এবং অবৈধভাবে লিবিয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন উপায়ে মানব পাচার করেন। লিবিয়া প্রবাসী আমির হোসেন তার ভাই আটক হওয়া ইমাম হোসেন শেখের মাধ্যমে বাংলাদেশে যাবতীয় আর্থিক লেনদেন ও লোক সংগ্রহের কাজ সম্পাদন করেন।
এদিকে সিআইডির সূত্র মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডির পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে আব্দুল জলিল ওরফে লাল ডাক্তার, রুবেল হোসেন, রুবেল আহম্মেদ, কুতুব উদ্দিন ও পারভেজ আহমেদকে দেশের ভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন জানান, সারা দেশে মানব পাচারের ১৫টি মামলা সিআইডি তদন্ত করছে। এসব মামলায় সিআইডির অভিযানে এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।