ডিসিসিআইর বাজেট প্রতিক্রিয়া

বাস্তবায়ন হলে করোনার ক্ষতি পোষানো সম্ভব

প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট কর হ্রাসসহ বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্জন করা কঠিন হলেও ব্যবসাবান্ধব এ বাজেট বাস্তবায়নে করোনার প্রাদুর্ভাবের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গতকাল এ কথা জানান ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ। লিখিত বক্তব্যে ডিসিসিআই জানায়, বিশ্ব অর্থনীতি করোনার প্রকোপে বিপর্যস্ত। কঠিন এ সময়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে ঘোষিত ২০২০-২১ বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ ও মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় এরূপ উন্নয়নশীল ও উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ঘোষিত বাজেট আশাব্যঞ্জক। বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় ডিসিসিআই।

বাজেটের আকার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি। এছাড়া এনবিআরবহির্ভূত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ালেও গত অর্থবছরের তুলনায় করবহির্ভূত রাজস্ব পরিমাণ কমেছে ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। নতুন বাজেটে ঘাটতি ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা যা মোট জিডিপির ৬ শতাংশ। প্রতি বছর ঘাটতি বাজেট ৫ শতাংশ ধরা হলে এর কমই বাস্তবায়ন হয়। তাই অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় এ ঘাটতি সহনশীল ও জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যয় হতে পারে।

আসন্ন অর্থবছর ব্যক্তিশ্রেণির আয়করের ন্যূনতম সীমা তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার এবারের বাজেটে ডিসিসিআই প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন করহার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে, যা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ নির্ধারণের কারণে করদাতাদের ওপর করবোঝা কিছুটা কমবে।

অর্থনৈতিক কর্মকা- পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার এ অর্থবছরে করপোরেট করহার কমিয়েছে, যা প্রশংসার দাবিদার। বিশেষত বেসরকারি খাতের ননলিস্টেড কোম্পানির ২ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট ট্যাক্স কমানো হয়েছে। তবে করপোরেট করের হার বর্তমানে আরও কমানো প্রয়োজন। এতে করোনা প্রাদুর্ভাব-পরবর্তী ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারেন। যে পরিমাণ অর্থ আন্ডার বা ওভার ইনভয়েসিং করা হবে এবং যে পরিমাণ প্রদর্শিত বিনিয়োগ ভুয়া প্রমাণিত হবে তার ওপর ৫০ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব অর্থ পাচার রোধে ভূমিকা রাখবে। এ বছর দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানি করার ক্ষেত্রে অগ্রিম করের পরিমাণ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ ও অগ্রিম কর সমন্বয়ে দুই কর মেয়াদের পরিবর্তে চার কর মেয়াদে সমন্বয় করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনমুখী কাঁচামাল সরবরাহ সহজ করার পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তবে ভ্যাট আরোপ মূল্য সংযোজন বা মুনাফা অনুপাতে হতে হবে। পরিবহন কর রেয়াত ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অনুমোদন ও ইউটিলিটি বিলগুলো উপকরণ কর রেয়াত অনুমোদন করার স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। ভ্যাট আইনের ৮৩ এর উপধারা ৪ অনুযায়ী সাধারণ রাজস্ব কর্মকর্তাকে ব্যবসাস্থল অনুমতিহীন পরিদর্শন ও হিসাব পরীক্ষা করতে দিলে হয়রানির আশঙ্কা থেকে যায়। অন্যদিকে আপিল ও ট্রাইব্যুনালে আবেদনের পূর্বে ১০ শতাংশের পরিবর্তে উভয় ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ নির্ধারিত অর্থ জামানত হিসাবে দিতে হলে ব্যবসায়ীদের ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। কর নিরূপণে এনবিআরের কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বিবেচিত হবে। তাই এ সিদ্ধান্তগুলোকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ডিসিসিআই।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, করোনায় চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে রপ্তানি কমেছে ১৮ শতাংশ। পোশাক শিল্প, চামড়া, পাট ও পাটজাতদ্রব্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাতপণ্য এবং ওষুধ পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর অব্যাহতি ও অগ্রিম কর প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়।