বিবিএসের প্রকল্পে জনবল নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ প্রকল্পে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে ৬৬১ জনবল নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে পরিসংখ্যান ব্যুরোর সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) মহাপরিচালকের (ডিজি) নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রকল্প পরিচালক জাহিদুল হক সরদার এ দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছে গালফ সিকিউরিটি  (প্রা.) লিমিটেড নামে একটি আউটসোর্সিং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুর্নীতির বিষয়ে সবিস্তারে জানিয়ে গত মঙ্গলবার সিপিটিইউ’র ডিজি দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন দরপত্রে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ বি এস খান স্বপন।

এদিকে আল-আরাফাত সার্ভিসেস (প্রা.) লিমিটেড নামে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে এই দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আবু তালেবের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে তিনি বলেন, আল-আরাফাত সার্ভিসেসের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আল-আরাফাত সার্ভিসেসের (প্রা.) চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য ও ফেনী পরশুরাম বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব।

গালফ সিকিউরিটি লিমিটেডের এমডি এ বি এস খান স্বপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্র্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ প্রকল্পের আওতায় প্রকল্প দপ্তর, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়গুলোর জন্য অস্থায়ীভাবে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবলের সেবা গ্রহণের উদ্দেশে গত ১৫ জানুয়ারি দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই জনবল চাহিদার মধ্যে রয়েছে পরিসংখ্যান তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ সেবার আওতায় ৬৫০টি ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, পরিবহন সেবার আওতায় ৭টি গাড়িচালক এবং অফিস/কর্মসহায়ক সেবার আওতায় ৪টি অফিস সহায়ক। দরপত্রে অংশ নেয় গালফ সিকিউরিটি (প্রা.) লিমিটেডও। দরপত্র মূল্যায়নে ব্যাপক দুর্নীতি হওয়ায় সিপিটিইউ’র ডিজির দপ্তরে গত ৪ জুন আপিল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, পিপিআর-২০০৮ এর বিধি-৫৮ অনুযায়ী গত রবিবার সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে চুক্তি সম্পাদনের নোটিস (এনওএ) জারি থেকে বিরত থাকার জন্য একটি আদেশ জারি করেন সিপিটিইউ’র ডিজি। আদেশের কপি সিপিটিইউ’র নির্ধারিত ই-মেইল থেকে প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল হক সরদারের নির্ধারিত ই-মেইলেও পাঠানো হয়। কিন্তু সিপিটিইউ’র ডিজির সেই আদেশ ও নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রকল্প পরিচালক প্রতারণা ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ‘ব্যাক-ডেট’ বসিয়ে গত ৪ জুন আল-আরাফা সিকিউরিটি সার্ভিসেস (প্রা.) লি. এর অনুকূলে কার্যাদি চুক্তি সম্পাদনের নোটিস জারি করেন। তাই সরকার কর্র্তৃক গঠিত রিভিউ প্যানেল  থেকে উল্লিখিত আপিলটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিধি-৫৮ অনুযায়ী চুক্তির কার্যাদেশ প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদানের জন্য সিপিটিইউ’র ডিজির দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উল্লিখিত প্রকল্পের পরিচালক জাহিদুল হক সরদারের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। গতকাল শনিবারও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সিপিটিইউ’র ডিজি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটির পরিচালককে চুক্তি সম্পাদনের নোটিস জারির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কার্যাদি চুক্তি সম্পাদনের নোটিস জারি করেছেন, বিষয়টি অবগত নই। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও সিপিটিইউ’র ডিজি জানান।