দেশে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এসব পরীক্ষায় সর্বমোট সাড়ে ৮৭ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল রবিবার দেশে করোনা শনাক্তের ৯৯তম দিনে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ৩ হাজারের বেশি রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ের মধ্যে দেশে আরও ৩২ জন রোগী মারা গেছেন। দেশে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম দিকে দৈনিক অল্প সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হতো। তাই প্রথম এক লাখ নমুনা পরীক্ষা হতে লেগেছে গত ৭ মে পর্যন্ত ৬১ দিন। এরপর ক্রমান্বয়ে নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো হয়। ফলে তার ১৩ দিন পর গত ২০ মে পরীক্ষা ২ লাখ, তার ১১ দিন পর ৩১ মে ৩ লাখ, তার ৮ দিন পর ৮ জুন ৪ লাখ এবং তার ৬ দিন পর গতকাল ১৪ জুন পর্যন্ত পরীক্ষা ৫ লাখ ছাড়াল। অর্থাৎ চলতি মাসের গত ১৪ দিনেই দুই লাখ পরীক্ষা হয়েছে। এই দুই লাখ পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন ৪০ হাজার ৩৬৭ জন এবং এই সময়ের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫২১ জন। বলা যায়, সর্বমোট শনাক্ত ও মৃত্যুর অর্ধেকের কাছাকাছি হয়েছে চলতি মাসের গত ১৪ দিনে।
গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) সবগুলো ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৪ হাজার ৬৯০টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০৫টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ৩ হাজার ১৪১ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন রোগী শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। একই সময়ের মধ্যে দেশে করোনায় মারা গেছেন আরও ৩২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৯০৩ জন।
তিনি জানান, গতকাল আরও একটি প্রতিষ্ঠান নমুনা পরীক্ষা শুরু করেছে। সেটি হলো ঢাকার বেসরকারি আইজি হাসপাতাল লিমিটেড। এ নিয়ে দেশে মোট ৬০টি প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৫ লাখ ১ হাজার ৪৬৫টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় মোট ৮৭ হাজার ৫২০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১ হাজার ১৭১ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮ হাজার ৭৩০ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ ও সুস্থতার হার ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ।
সর্বশেষ মৃতদের বিষয়ে বলা হয়, তাদের মধ্যে পুরুষ ২৭ জন ও মহিলা ৫ জন। ঢাকা বিভাগে ১৬ জন, চট্টগ্রামে ১১ জন, সিলেটে ২ জন, বরিশালে ১ জন, রংপুরে ১ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন মারা গেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২০ জন, বাড়িতে ১১ জন এবং মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে ১ জনকে। তাদের মধ্যে ২১-৩০ বছরের ১ জন, ৩১-৪০ বছরের ১ জন, ৪১-৫০ বছরের ৬ জন, ৫১-৬০ বছরের ১০ জন, ৬১-৭০ বছরের ৯ জন, ৭১-৮০ বছরের ২ জন এবং ৮১-৯০ বছরের ৩ জন।
বুলেটিনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭১২ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ৯ হাজার ৭৫৮ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ২ হাজার ৭৯২ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৬১ হাজার ৮১৪ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩১৪টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ২৭ জন। তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
ভুল সংশোধন : গত শনিবার সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা ও শনাক্তের হারে ভুলক্রমে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত শনিবার ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওইদিন ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষা ১৩ হাজার ৬৩৮টি হলেও ভুলক্রমে বলা হয়েছে ১৬ হাজার ৬৩৮টি এবং শনাক্তের হার হবে ২০ দশমিক ৯৪ শতাংশ, যা ভুলক্রমে ১৭ দশমিক ১৭ শতাংশ বলা হয়েছিল। অন্যদিকে গত ৯ জুন বুলেটিনে ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ৭৭৭ জন বলা হলেও পরে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সেই সংখ্যা উল্লেখ করা হয় ৭৭৬ জন।