কপিরাইট মামলার রায়

মাসুদ রানার লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন নন

সেবা প্রকাশনীর পাঠকপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজ মাসুদ রানার ২৬০টি এবং কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে কপিরাইট স্বত্ব পাচ্ছেন শেখ আবদুল হাকিম। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গতকাল রবিবার বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস এ রায় দিয়েছে। যার ফলে দাবি করা মাসুদ রানা সিরিজের প্রথম ১১টি বইয়ের পরের ২৬০টির লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন নন। এর লেখক হিসেবে শেখ আবদুল হাকিম স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন।

২০১৯ সালের ২৯ জুলাই লেখক হিসেবে মালিকানাস্বত্ব দাবি করে সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কপিরাইট আইনের ৭১ ও ৮৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন শেখ আবদুল হাকিম।

কপিরাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, শেখ আবদুল হাকিম অভিযোগ করার পর অভিযোগকারী ও প্রতিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে ওই বছরের ১১ ও ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ৪ নভেম্বর শুনানি হয়। শুনানিতে উভয়পক্ষ সপক্ষে নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বিষয়টি জটিল এবং দেশের প্রকাশনা শিল্পের ক্ষেত্রে লেখক ও প্রকাশকের পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করে, এর সন্তোষজনক ও সুষ্ঠু সমাধানের উদ্দেশ্যে ওই অভিযোগের বিষয়ে দেশের বিখ্যাত ও প্রথিতযশা কয়েকজন লেখক ও প্রকাশক এবং সেবা প্রকাশনীর সাবেক ব্যবস্থাপকের লিখিত মতামত চাওয়া হয়। যাদের মধ্যে ছিলেন লেখক বুলবুল চৌধুরী ও শওকত হোসেন, প্রখ্যাত শিল্পী হাসেম খান এবং সেবা প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক ইসরাইল হোসেন খান। তাদের লিখিত মতামতের ওপর ভিত্তি করেই রায় দেওয়া হয়েছে।

কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী জানান, শেখ আবদুল হাকিমের দাবি করা ২৬০টি মাসুদ রানা বইয়ের মধ্যে একটি এবং কুয়াশার ৫০টি বইয়ের মধ্যে ছয়টিতে লেখক হিসেবে তার নামে কপিরাইট করা আছে। বাকিগুলোর কপিরাইট করা নেই। তবে সেগুলো তার লেখা এটা তিনি প্রমাণ করেছেন। কপিরাইট অন্তর্ভুক্তির কারণে তাকে প্রতিটি বইয়ের জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হবে। এরপর প্রতিটি বইয়ের লেখক হিসেবে তার নাম যাওয়ার পাশাপাশি, কপিরাইটও তার হয়ে যাবে। অন্যদিকে কাজী আনোয়ার হোসেন চাইলে এ রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারবেন এবং তা অবশ্যই ৯০ দিনের মধ্যে। এখানে তিনি হেরে গেলে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন।