ডিপ্রেশন মানুষরূপী অমানুষদের চিনিয়ে দেয়

ডিপ্রেশন জিনিসটা কম বেশি সবার মধ্যেই আছে। কারো কম, আবার কারো বেশি। আসলে আপনি কেন ডিপ্রেশনে আছেন, সেটা শেয়ার করার মানুষ সবাই পায় না।

পায় না বললেও ভুল হবে। মানুষ পায়, কিন্তু কেউ থাকে উইক পয়েন্ট জানার জন্য, যেনো সে আপনাকে পরবর্তীতে আরো বেশি আঘাত করতে পারে। আবার কেউ বা সেই রকম ভালো মানুষ পেয়েই যায়, তবে ভালো মানুষ পাওয়া খুবই কঠিন একটা বিষয় আজকাল।

আমি নিজেও বহু বার ডিপ্রেশনে ভুগেছি। আসলে কি জানেন তো, আপনি ডিপ্রেশন আর বিপদে না পরলে জীবনে শিক্ষা পাবেন না। জীবনে এই দুটো জিনিসের দরকার আছে আমাদের, নইলে আমরা মানুষরূপী অমানুষগুলো কে কি ভাবে চিনব বলেন???

আমি যখন ডিপ্রেশনে ভুগেছি, যখন বিপদে পড়েছি তখন প্রত্যেকটা মুখোশধারী মানুষগুলো যারা ছিল তাদের কে চিনেছি। কিছু মানুষ আছে যারা আপনাকে ওপর ওপর সান্ত্বনা দেবে কিন্তু ভেতর ভেতর মজা ওড়াবে।

আপনি যদি কারো জন্য ডিপ্রেশনে পড়েন তাহলে কিছু মানুষ আছে যারা আপনাকে ‘আরেহ বাদ দাও’ কথাটা বলে ওপর জনকে সাপোর্ট করবে। এরা হচ্ছে মুখোষধারী কিছু মানুষ। এদের থেকে সত্যিই খুব সাবধানে থাকতে হবে।

একটা কথা, আমাদের পরিবারে বাবা, মা, ভাই, বোন আছে। আমরা চেষ্টা করব আমাদের কষ্টের কথাগুলো তাদের সাথে শেয়ার করার। পরিবারে কেউ না কেউ তো থাকবে যে আপনার কষ্টগুলো বুঝবে।

একটা কথা কি জানেন তো, পরিবার কখনো আপনার উইক পয়েন্ট-এ আঘাত করবে না। আপনাকে খোঁটা করবে না। যদিও করে তাহলে সেটা পরিবারের সামনেই করবে। বাইরের কারো সামনে নই। আমরা তো বাসায় অনেক সময় মায়ের হাতে স্যান্ডেল দিয়েও মাইর খেয়েছি, বড় ভাই বোনের কাছেও মাইর খেয়েছি। সেই গুলো কখনো আমাদের গায়ে লাগাইনি। ইনশা আল্লাহ এই কথাগুলোও গায়ে লাগবে না। যদিও লাগে, তো একটু পর সেই পরিবারই আপনার কাছে এসে আপনাকে আদর করবে, আপনাকে ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে নিবে।

বিশ্বাস করুন এই পরিবার ছাড়া এই পৃথিবীতে তো কেউ কারো নই। আজ এই বড় ভাই খুব ভালো, সেই বড় আপু খুব ভালো। চারিদিকে ভাই, ব্রাদার, বড় আপু, ছোট আপু, ইত্যাদি ইত্যাদিতে ভর্তি। কিন্তু যখন সময় আসবে তখনই বুঝে যাবেন কে কার।

আজ যে ছেলে-মেয়েটা আপনার জন্য পাগল, আপনার জন্য সব করতে পারে, আপনিও তাকে খুব বিশ্বাস করেন। বিশ্বাস করুন একটা সময় আসবে যখন দেখবেন কাল সে আরেকজন ছেলে অথবা মেয়ে নিয়ে ব্যস্ত হতে পড়েছে। যার কাছে আপনার কোনো মূল্যই নেই। যে এক সময় আপনার সাথে কথা না বলে থাকতে পারতো না, কিছুদিন পার হলে দেখবেন সে আপনার কল ইগনোর করছেন, আপনাকে হাজারো ব্যস্ততা দেখাচ্ছে।

যখনই আপনি তার কাছে ব্যস্ততার কারণ জানতে চাইবেন ব্যাস তারপর থেকে সে আপনাকে আর সহ্যও করতে পারবে না। আপনাকে ছাড়ার জন্য একশোটা বাহানা খুঁজে আপনাকেই অপরাধী বানিয়ে আপনাকে ছোড়ে ফেলে চলে যাবে।

তাই ভাই নিজেকে স্ট্রং করা আসলেই জরুরি। যারা ডিপ্রেশন হজম করতে পারেন ভালো, আর যারা পারেন না তারা পরিবারের শরণাপন্ন হন। দেখবেন কষ্ট হলেও অ্যাটলিস্ট সুইসাইডের পরিকল্পনা মাথায় আসবে না ইনশা আল্লাহ।

মানুষ তখনই সুইসাইড করে যখন তার কাছে মনে হয় তার বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই আর। যারা ডিপ্রেশনে ভুগে তাদের সত্যিই ভীষণ কষ্ট হয় এটা আমি খুব ভালো করেই জানি। কিন্তু তাই বলে আমরা সুইসাইড করব না। কারণ আমাদের পরিবার আছে। মরার আগে তাদের কথা একটা বার চিন্তা করব। এটা চিন্তা করব আমার বাবা-মা আমাকে কতটা কষ্ট করে মানুষ করেছেন। তাদের প্রতিও আমার অনেক দায়িত্ব রয়েছে, সেগুলো পূরণ না করেই চলে যাওয়া যায় না।

সুইসাইড করাটা নিছক বোকামি ছাড়া আর কিছুই নই। আমরা সব সময় যেমনটা চাই, তেমনটা সব সময় হয় না। সুখ-দুঃখ নিয়েই আমাদের জীবন।

লেখক: দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে রুপা জয়ী কারাতেকা।