দেশে করোনা সংক্রমণের শততম দিন পার হলেও রোগটি নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো সুখবর নেই। বরং গত ৮ মার্চ প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল সোমবার ১০০ দিনে এসে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা খারাপের দিকেই যাচ্ছে। কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করছে দেশটি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সময়ে রোগটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কোনো উদ্যোগই কাজে লাগেনি। সময়ক্ষেপণ হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে স্থানীয় সংক্রমণ থেকে রোগটি সামাজিকভাবে সংক্রমিত হয়েছে। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। এমনকি সর্বশেষ ‘রেড জোন’ ঘোষণার মাধ্যমে ধাপে ধাপে দেশব্যাপী যে লকডাউন করতে যাচ্ছে সরকার, সে পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। লকডাউন ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যগত উপাদানের চেয়ে প্রশাসনিক উপাদান বেশি প্রাধান্য পাওয়ায় এবং ধীরগতির ও ধাপে ধাপে লকডাউনের কারণে এ উদ্যোগ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঠিক কতটুকু কার্যকর হবে সে নিয়ে সন্দিহান তারা।
অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত শীর্ষ ৪০ দেশের মধ্যে ২৫টি দেশ এরই মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণকাল (পিকটাইম) অতিক্রম করে ফেলেছে। অথচ বাংলাদেশসহ বাকি ১৫টি দেশে দৈনিক সংক্রমণের হার এখনো বাড়ছে। সংক্রমণের হিসাবে ২০টি ঊর্ধ্বমুখী দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪ নম্বরে এবং মৃত্যুহারে ১৭তম। এর মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার ফ্রান্সে ১৫ দশমিক ২০ ও সর্বনিম্ন সৌদি আরবে শূন্য দশমিক ৭৪ এবং বাংলাদেশে ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
আবার সংক্রমণের শীর্ষ ২০ দেশের মধ্যে করোনার নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে দুই দেশের একটি বাংলাদেশ। বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে গড়ে ২ হাজার ৮৭৬ জনের করোনা (কভিড-১৯) শনাক্তকরণের পরীক্ষা হচ্ছে। বাংলাদেশের চেয়ে কম পরীক্ষা হচ্ছে মেক্সিকোতে। আর দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে তুলনা করলে বাংলাদেশের চেয়ে কম পরীক্ষা হচ্ছে শুধু আফগানিস্তানে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। এই ১০টি দেশের মধ্যেও দ্বিতীয় সর্বনিম্ন পরীক্ষা হচ্ছে বাংলাদেশ। এখানেও সবচেয়ে কম পরীক্ষা হচ্ছে অষ্টম স্থানে থাকা মেক্সিকোতে। সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশের ঠিক পরেই ২০তম স্থানে থাকা কাতারে প্রতি ১০ লাখে ৯৯ হাজার ৯৫৯ পরীক্ষা হচ্ছে।
এমনকি সংক্রমণের দিনক্ষণ হিসাবে চূড়ায় (পিক) ওঠার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে বাংলাদেশ। আক্রান্তের শীর্ষ তালিকায় থাকা বেশিরভাগ দেশই শততম দিনের মাথায় এসে হয় আক্রান্তের চূড়ায় উঠেছে বা চূড়া থেকে নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে মে মাসের শেষের দিকে সংক্রমণের হার শুধু চূড়ার দিকে উঠতে শুরু করে। জুনের মাঝামাঝি সময়ে এসে সংক্রমণের হার একই জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছে। অর্থাৎ মোট পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার ২০-২২ শতাংশের মধ্যেই ওঠানামা করছে। বাড়ছে না, কমছেও না।
এরই মধ্যে গতকাল সোমবার শততম দিনেও নতুন করে ৩ হাজার ৯৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৩৮ জন। এ নিয়ে শনাক্তের সংখ্যা ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে। মোট করোনা শনাক্ত হলো ৯০ হাজার ৬১৯ জন। আর মৃত্যু ১ হাজার ২০৯ জনের।
করোনার এমন পরিস্থিতিকে সংক্রমণের শততম দিনে এসে দুইভাবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ২৫ মে থেকেই আমাদের এখানে করোনার সংক্রমণ ‘পিক’-এ উঠে গেছে। সপ্তাহ তিনেক গেল। এখনো ‘পিকে’ই আছে। ২০, ২২ ও ২১ শতাংশ হারে সংক্রমণ হচ্ছে। তিন সপ্তাহ যখন বাড়েনি ও কমেনি এটাই ‘পিক’। এখন এটাকে কমাতে হবে। কমাতে হলে সংক্রমণ কমাতে হবে। সরকার লকডাউন করতে চাইছে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু ঠিকমতো করতে হবে। সরকার খুব বুঝেশুনে প্রস্তুতি নিয়ে যেন করে। সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য এখন এটাই আমাদের শেষ সুযোগ।
লকডাউনের ব্যাপারে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, জোন ভাগাভাগি হয়ে গেছে। লকডাউন করতে চাইলে দ্রুত করতে হবে। সময় যেন নষ্ট না করে। লকডাউন এলাকায় রোগীগুলোকে শনাক্ত করতে হবে, আইসোলেট ও কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। চিকিৎসা করতে হবে। সব রোগীকে আরোগ্য করতে হবে। লকডাউন শেষে যেন ভেতরে কোনো সংক্রমিত রোগী না থাকে। এটা নিশ্চিত করতে হবে।
অবশ্য করোনা সংক্রমণের শততম দিনে এসে করোনা রোগীদের জন্য হাসপাতালে হাই-ফ্লো অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে না পারাটা বড় ঘাটতি বলে মনে করেন এ বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে খুব গ-গোল। অচিরেই সরকারকে এর সমাধান করতে হবে। চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনেক উন্নয়ন করতে হবে। তাছাড়া আমরা প্রচুর সময় নষ্ট করেছি। এখনো কর্তাব্যক্তিরা অনেকে মনে করেন, এত ল্যাবরেটরির কী দরকার। এ মনোভাব বাদ দিতে হবে। মানুষকে সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে হবে।
শততম দিন পেরিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণে দেশের মানুষকে সুখবর দেওয়ার মতো কিছু নেই বলে মনে করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের আত্মতৃপ্তির কিছু নেই। জনগণকে ভালো কোনো সুসংবাদ দেওয়ারও কিছু নেই। বরং জনগণকে সতর্ক করতে পারি যে, সামনে আমাদের আরও কঠিন দিন অতিক্রম করতে হবে। আরও মৃত্যু সংবাদ শুনতে হবে।
১০০ দিনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রথমদিক থেকেই আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। যখন করোনাকে প্যানডেমিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তার আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। যেমন মালদ্বীপ ফেব্রুয়ারিতে চীন থেকে টেস্ট কিট কিনে রেখেছে। সেই হিসাবে বাংলাদেশের কোনো প্রস্তুতিই ছিল না। আইইডিসিআর টেস্ট করার জায়গা নয়। এটা সার্ভিল্যান্সের জায়গা। কোনোসময় এনডেমিক দেখা দিলে তাদের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখবে, রোগটি কীভাবে হলো, কী চিকিৎসা দেওয়া যায়, এসব পরামর্শ দেবে। এটা জনগণের জন্য কোনো প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি নয়। অথচ তারা অনেক দিন ধরে একাই টেস্ট করেছে। তারপর জানলাম কিট নেই। পরে জানলাম পিসিআর মেশিনও নেই। পরে আবার জানলাম অনেক পিসিআর মেশিন আছে, কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেই। অথচ এসব পিসিআর মেশিনসহ কোথায় কী ল্যাবরেটরি আছে, সেগুলো প্রস্তুত রাখা উচিত ছিল। আবার এসব মেশিন চালানোর মতো লোকবল আছে। কিন্তু তাদের সংগঠিত করিনি। তারা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তাদের এনে কাজে লাগাইনি।
চিকিৎসা ও কোয়ারেন্টাইন প্রসঙ্গে ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, যারাই সংক্রমিত হবেন, তাদের হাসপাতালে আইসোলেশনে নিতে হবে। আবার তাদের সংস্পর্শে ও বিদেশ থেকে যারা আসবে, তাদের কোয়ারেন্টাইনে নিতে হবে। এ কোয়ারেন্টাইনেরও কোনো ব্যবস্থা করিনি। তাবলিগ জামাতের মাঠে ও কুর্মিটোলা স্টেডিয়ামে আমরা কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করতে পারতাম, করিনি। আশকোনা হাজি ক্যাম্প যেখানে খুব অল্পসংখ্যক লোককে রাখা যায়, সেখানে করেছি। সেটাও আমরা প্রস্তুত করিনি। রোগটি বাংলাদেশে এলো, কী কৌশলে রোগটি মোকাবিলা করব, সেই কৌশলও ছিল না। পরিকল্পনাও করিনি। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং পদ্ধতি ঠিক করিনি। যে কারণে পরবর্তী সময়ে লকডাউনের মতো একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগেছি। জনগণকে একটা ভুল বার্তা দিয়েছি যে এটা ‘ছুটি’, আবার ঘরেও থাকতে বলেছি। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সচেতন করেছি। কিন্তু মানতে উদ্বুদ্ধ করিনি। তাতে জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না। সুতরাং আমরা যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছি, তার ফলশ্রুতিতে এটা সারা দেশে ছড়িয়েছে।
এ বিশেষজ্ঞ বলেন, এখন করোনার যে পরিস্থিতি, তাতে আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছি। এখন আমাদের একটা সঠিক কৌশল ঠিক করতে হবে। সেটা যত তাড়াতাড়ি নির্ধারণ করে সংক্রমণ দমনে ব্যবস্থা নিতে পারব, ততই দ্রুত আমাদের সংক্রমণ ও মৃত্যু কমবে। এজন্য এখন আশু প্রয়োজন কোয়ারেন্টাইন ও হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি। প্রতি উপজেলাকে কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনের জন্য তৈরি করতে হবে। ক্যানোলা ও অক্সিজেন মাস্কসহ অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি জেলায় কোয়ারেন্টাইন ও ভেন্টিলেশনসহ আইসিইউর ব্যবস্থা করতে হবে। জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসব ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে আমরা মৃত্যু কমাতে পারব, ঠেকাতে পারব না। আর সঠিকভাবে লকডাউনটা করতে হবে।
রোগী শনাক্তের পর রোগটি নিয়ন্ত্রণে দেশে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো সংক্রমণ রুখে দিতে খুব একটা কার্যকরী হতে পারেনি বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংক্রমণের ধারা দেখলে বোঝা যায়, যতদিন আমাদের ন্যাশনাল লকডাউন ছিল, ২৫ মার্চ থেকে পরবর্তী কয়েক দিন যেভাবে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলাম, তাতে ঈদের সময়ের আগে পর্যন্ত সংক্রমণে ধীরগতি ছিল। অন্য দেশে যে রকম খাড়া উঠে গেছে, সেটা এখানে হয়নি। কিন্তু ঈদের সময় ও এর পরে যেভাবে সবকিছু খুলে দেওয়া হয়, তার প্রভাবে এখন ঊর্ধ্বমুখী গতি দেখতে পাচ্ছি। যেহেতু রোগটা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে গেছে, এখন সেটা খাড়া বা ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকবে। অথচ এখনো নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখছি না। ফলে সামনের দিনগুলোতে প্রতিদিন সাত-আট বা ১০ হাজার রোগী পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। এটা ব্রাজিলে হচ্ছে। ভারতেও এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে আমরা আসলে খারাপের দিকেই যাচ্ছি। রোগী যদি এভাবে বেড়ে যায়, তখন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কঠিন হবে।
এ বিশেষজ্ঞ বলেন, জোনভিত্তিক ব্যবস্থাটা যদি একসঙ্গে ৫০০ বা ১ হাজার জায়গায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে করতে পারি, তাহলে হয়তো আমরা করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম, সুযোগ ছিল। প্যানডেমিক ঘূর্ণিঝড়ের মতো। আঘাতের আগে, অর্থাৎ সংক্রমণের আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। লকডাউনটা যে ধীরে ধীরে বা ধাপে ধাপে করতে চাইছে, তাতে সমস্যা হবে যদি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, তখন রেড-গ্রিন জোনে ভাগ করে লাভ হবে না। লকডাউন ব্যবস্থাপনায় আমি জনস্বাস্থ্যের উপাদান দেখছি না। সবই প্রশাসনিক উপাদান। প্রশাসনিক উপাদান দিয়ে তো জনস্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন : নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে গতকাল জানানো হয়, নতুন মারা যাওয়া ৩৮ জনের মধ্যে পুরুষ ৩২ ও নারী ৬ জন। যারা বাসায় থেকে সুস্থ হয়েছেন, তাদের সংখ্যা গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে। তাই আজ এটি অনেক বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৩৪ হাজার ২৭ জন সুস্থ হয়েছেন। ১৫ হাজার ৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। এর আগের দিন ১৪ হাজার ৫০৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৫০৩টি নমুনা। দেশে ৫৮টি ল্যাবে (পরীক্ষাগার) নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।