কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করায় মিরসরাই পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১০টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রায় ২৫ বছরের চলাচলের রাস্তা দখল করে বাড়িতে প্রবেশের পথ আটকে ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করায় যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে ওই পরিবারগুলোর।
ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না ইমারত নির্মাণ আইন ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা।
অভিযোগ রয়েছে, নির্মিতব্য ভবনের নকশা নিয়েও। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সুরাহা পায়নি ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
ভুক্তভোগী মরিয়ম আক্তার জানান, মিরসরাই পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মিরসরাই এলাকার তাদের প্রতিবেশি হাজী শাহ আলম কিছুদিন আগে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেশী মরিয়ম আক্তার, সুলতান আহম্মদ ও রহিমা বেগমের দীর্ঘ ২৫ বছরের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি জোরপূর্বক গভীর গর্ত খুড়ে এবং টিনের ঘেরা দিয়ে বন্ধ করে দেন।
এতে মরিয়ম আক্তার, সুলতান আহম্মদ ও রহিমা বেগমের ভাড়াটিয়াসহ ১০টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলেও প্রভাবশালী হাজী শাহ আলম কর্ণপাত না করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উপরন্তু তিনি নিজের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ভাবে প্রভাব বিস্তার করে কাজ করে যাচ্ছেন।
মরিয়ম আক্তার জানান, বর্তমানে বাড়িতে প্রবেশের পথ একেবারেই বন্ধ করে দেয়ায় দৈনন্দিন কাজ কর্মের জন্য ঘর থেকে বের হওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আনা নেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কোন প্রকার দুর্যোগ কিংবা দুর্ঘটনা ঘটলে, কেউ অসুস্থ হলে কোন প্রকার অ্যাম্বুল্যান্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি অথবা কোন চিকিৎসক, উদ্ধারকর্মী যাতায়াত করতে পারবেন না।
মরিয়ম বেগম বলেন, বহু বছর আগে ওই রাস্তা দিয়েই গ্যাস লাইন এসেছে আমাদের বাড়িতে।
অভিযোগের বিষয়ে হাজী শাহ আলম বলেন, আমার মালিকানাধীন জায়গায় আমি ঘর করছি। প্রথমে বলেন, এখানে কারো হাঁটাচলার রাস্তা নেই। পরে তিনি স্বীকার করেন, পৌর কর্তৃপক্ষ তিন ফিট জায়গা রেখে কাজ করতে বলেছিলেন। এখন নির্মাণ কাজ চলছে তাই রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও স্বীকার করেন, পাশের বাড়ির গ্যাস লাইন ওই রাস্তা দিয়েই গেছে।
মিরসরাই পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাখের ইসলাম রাজু জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য ভুক্তভোগীদের অনুরোধে আমি হাজী শাহ আলমের সাথে বৈঠকে বসেছিলাম। কিন্তু শাহ আলমের অনড় অবস্থানের কারণে বিষয়টি মীমাংসা করা যায়নি।
তিনি স্বীকার করেন, ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ ২০/২৫ বছর ধরে ওই রাস্তা দিয়েই চলাচল করতেন।
এ বিষয়ে মিরসরাইয়ের পৌর মেয়র এম. গিয়াসউদ্দিন মুঠোফোনে জানান, ভবন নির্মাণের জন্য হাজী শাহ আলম অনুমতি চাইলে প্রতিবেশী পরিবারগুলোকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তখন তারা আসেননি। এখন সকল আইন মেনে নকশা অনুমোদন দিয়ে দেয়ার পর তারা রাস্তার জন্য অভিযোগ করছেন।
তবে তিনি বলেন, পৌর বিধান অনুযায়ী তিন ফিট জায়গা ছেড়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সেখানে চলাচলের জন্য বর্তমানে ৩ ফিট জায়গাও নেই প্রশ্ন করলে তিনি ঢাকায় আছেন রোগী নিয়ে পরে কথা বলবেন বলে কথা শেষ করেন।
এই বিষয়ে মিরসরাই থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক আমিরুল মুজাহিদ বলেন, গত রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবন নির্মাণ কাজ স্থগিত করেছি। বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে নোটিশ করা হবে।
তিনিও স্বীকার করেন, চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করা ঠিক হয়নি।