রাত ১২টা থেকে উত্তর কাট্টলীতে লকডাউন শুরু, বন্ধ থাকবে ১৪ সড়ক

মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে চট্টগ্রাম নগরের ১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে ২১ দিনের ‘কড়া লকডাউন শুরু করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ও স্থানীয় প্রশাসন।

চট্টগ্রামের করোনা সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব ক্রমশ বাড়তে থাকায় এবার কড়া লকডাউন করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে চসিক। লকডাইন চলাকালীন কেউ যাতে ওয়ার্ডের ভেতরে এবং বাইরে আসা যাওয়া করতে না পারে, সেজন্য ওয়ার্ডের ২০টি প্রবেশ পথের মধ্যে ১৪টি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, লকডাউনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মঙ্গলবার দুপুরে চসিক কনফারেন্স হলে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তানুযায়ী, লকডাউনকৃত ১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের ২০টি প্রবেশ পথের মধ্যে ১৪টি বন্ধ থাকবে এবং প্রয়োজনীয় কাজের জন্য ৬টি সড়ক খোলা থাকবে। লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে সাগরিকাস্থ বিসিক শিল্প এলাকা। প্রতিদিন রিক্সাভ্যানের মাধ্যমে ন্যায্যবাজার মূল্যে কাঁচা বাজার সরবরাহ করা হবে। ধর্মীয় ইবাদত ঘরে থেকেই আদায় করতে হবে, এলাকাবাসীর সার্বিক সহায়তার জন্য থাকবে সিটি কর্পোরেশনের একাধিক কন্ট্রোলরুম ও এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টীম।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে চসিকের ১০নং কাট্টলী ওয়ার্ডে লকডাউন কার্যকর করা হচ্ছে। যা আগামী ২১ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। লকডাউন চলাকালীন সময়ে উত্তর কাট্টলীর ১৪টি সড়ক বন্ধ থাকবে। এলাকার মানুষের সার্বিক সহায়তার জন্য থাকবে চসিকের একাধিক কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে।। বিশেষ কোন প্রয়োজনে কন্ট্রোলরুমের নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করে মিলবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা। স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা প্রতিটি ঘরে জিনিসপত্র পৌছে দেয়া হবে। এলাকার নিম্মবিত্তদের মাঝে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা  করা হবে। মুমূুর্ষ রোগী পরিবহনে থাকবে এ্যাম্বুলেন্স।

লকডাউন বাস্তবায়নে চসিক কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জু, চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, বাংলাদেশ ইনফেন্ট্রি রেজিমেন্ট সিও লে. কর্ণেল মাহবুব, চট্টগ্রামে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোস্তফা খালেদ আহমদ, চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি, সিএমপি’র এসপি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চসিক প্রধান  স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী প্রমুখ।

চসিকের কন্ট্রোল রুমের নম্বর সমুহ: ০৩১-৪৩১৫১৩৬৮, ০৩১-৪৩১৫১৩৬৯, ০৩১-৪৩১৫১৩৭০, ০৩১-৪৩১৫১৩৭১, ০৩১-৪৩১৫১৩৭২, মোবাইল- ০১৮১৯-০৫৬৮৪৪, ০১৮১১-৮৮৭০৮৪-তে যোগাযোগ করা যাবে।

এদিকে, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়ায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪০৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১২৪ জন। স্বাস্থবিধি না মানা এবং সামাজিক সংক্রমণের কারণে এই আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী জনসংখ্যার অনুপাতে যেসব এলাকায় কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বেশি, সেইসব এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে একটি তালিকা করে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা আসলেই রেডজোন এলাকায় লকডাউন শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।